অভিযোগ পবিপ্রবি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে
কমিশন না দেওয়ায় প্রকল্প পরিচালক ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ
Advertisement
দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কমিশন না পেয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ওবায়দুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার নিজ কক্ষে প্রায় ২ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখেন।
অবরুদ্ধ অবস্থায় পিডি ওবায়দুল এক ভিডিওতে দাবি করেন, ১ শতাংশ কমিশনের টাকা না দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের পরিশোধিত বিলের ১ শতাংশ টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে অবরুদ্ধ করেছেন।
ওবায়দুল ইসলাম অভিযোগ করে আরও বলেন, এর আগে ৭ এপ্রিল ছাত্রদল নেতারা একই দাবিতে আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এবার আমার কার্যালয়ের কক্ষের দরজায় তালা লাগিয়ে আটকে রেখেছেন। এদিকে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে ছাত্রদল নেতাদের পাশে বসে পিডি বলেন, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি ছিল এবং দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে পরবর্তীতে যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্যাম্পাস থেকে বের হতে তখন তাকে যা বলতে বলা হয়েছে সেটাই তিনি বলতে বাধ্য হয়েছেন। এখন ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় নিরাপদ বোধ করছেন। কমিশন না দেওয়ার কারণেই তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। এভাবে কমিশন দিয়ে তো দায়িত্ব পালন করা যাবে না।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম টেন্ডার দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেন। এরপর পদে পদে কাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। আমরা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজের গুণগতমান বজায় রাখার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনুরোধ গ্রহণযোগ্য মনে না করে তার অনিয়ম-দুর্নীতি বহাল রেখে কাজ বাস্তবায়ন করছেন। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেছেন। পিডির কাছে চাদা দাবি করার অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। নিজের অপরাধ ঢাকতে উলটো আমাদের দোষারোপ করছেন। পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রাতুল অভিযোগের বিষয়ে জানান, প্রকল্প পরিচালক পরে ভুল স্বীকার করেছেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাংবাদিকরা ছিলেন। তাকে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। তার বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তবে দুর্নীতি ও অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম।
