Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর সীমান্ত

‘লাইন ক্লিয়ার’ সংকেতে ছোটেন চোরাকারবারিরা

Advertisement

Icon

মহিউদ্দিন মিশু, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর উপজেলা এখন মাদক ও চোরাচালানের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এখানে সক্রিয় হয়ে ওঠেন চোরাকারবারিরা। বিজিবি ও পুলিশের নজরদারি সত্ত্বে ১৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে দেদার ঢুকছে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল, স্কফ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য। শুধু বিজয়নগরের এক ইউনিয়নেই মিলেছে ৬১টি মাদক স্পট। পুলিশ জানিয়েছে, চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা যায়, আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর সীমান্তে মাদক ও চোরাকারবারিদের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। তারা নানা কৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধ পণ্য নিয়ে আসে। সন্ধ্যার পর চোরাকারবারি দল প্রস্তুত হয়ে থাকে। সীমান্ত অঞ্চলে তাদের ‘লাইনম্যান’ রয়েছে। সুযোগ বুঝে তারা চোরাকারবারিদের মোবাইল ফোনে সংকেত দেয়-‘লাইন ক্লিয়ার’। এরপর সীমান্তের দিকে এগোতে থাকে কারবারিরা। তারা কাঁটাতারের বেড়া কেটে, খাল কিংবা সীমান্তের কালভার্টের ভেতরে হামাগুড়ি দিয়ে শূন্যরেখা পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করে। সেখানে তাদের অপেক্ষায় থাকে ভারতীয় চোরাকারবারিরা। এরপর দ্রুত মালামাল সংগ্রহ করে ফিরে আসে তারা।

৮ মে রাতে কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ অবৈধ চোরাচালান আনতে ভারতে প্রবেশ করে অন্তত ১৫ জন। অবৈধ পণ্য নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফ-এর গুলিতে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় দুই পরিবারে আহাজারি এখনো থামেনি।

জানা যায়, ত্রিপুরা রাজ্যঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের (৬০ বিজিবি) অধীনে ৭৯ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এছাড়া সরাইল বিজিবির (২৫ ব্যাটালিয়ন) অধীনে ৫৭ কিলোমিটার সীমান্ত। সুলতানপুর বিজিবি জানুয়ারি থেকে ১০ মে ৮৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬০ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ পণ্যসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করে। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল শরিফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক চোরাচালানি বন্ধে বিজিবির জওয়ানরা সতর্ক রয়েছে।

একই সময়ে সরাইল বিজিবি ৩৩ কোটি ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৯ টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ পণ্যসহ মাদকদ্রব্য জব্দ করে। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মাদক চোরাচালানিসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা সীমান্ত হত্যা বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত বিজিবি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, আখাউড়া উপজেলার সেনারবাদী সীমান্তে চোরাকারবারিতে সক্রিয় রয়েছে ফেন্সি কালো, ইদন, সোহাগ ও জনি। বাউতলা সীমান্তে বাউতলা পশ্চিমপাড়ার আলামিন খন্দকার, শফিকুল ইসলাম শুভা, ইয়ার মোহাম্মদ, রবিউল ইসলাম রবি, হারুন ও সাত্তার। জয়নগর ও ছয়ঘরিয়া সীমান্তে পিয়ারুন ও ইদন (হুন্ডি), রতন, শামীম, বশির, উমেদপুরের সুমন, মৃণাল এবং সেলিম ও তার ভাই ফারুক। মনিয়ন্দ কর্নেলবাজার সীমান্তে লাক্সু, খুলিল, খারকোটের হাসান, বাশার ও সজিব। হীরাপুর সীমান্তে হেবজুর ছেলে আলামিন, ধলেশ্বর গ্রামের কিবরিয়া এবং আজমপুর সীমান্তে সক্রিয় চোরাকারবারি মিন্টু চৌধুরী, সেলিম ভূঁইয়া ও রমজান ভূঁইয়া।

কসবা উপজেলা সীমান্তবর্তী গোপীনাথপুর, কাইয়্যুমপুর ও বায়েক ইউনিয়নের চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারিরা হলেন জেটুয়ামোড়ার নাইম, সিরাজ, জালাল, খিরনাল গ্রামের জমির, নোয়াগাঁওয়ের মালু, মানিক্যুমুরি এলাকার জামাই সুহেল ও বাহার, সীমাঘেঁষা ধজনগর গ্রামের সোর্স স্বপন, তোফাজ্জল, রিয়াজুল মুক্তো, শরিফ, মোশাররফ, হানিফ, নাজিব, হাসান ও রাসেল।

বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর ও সিঙ্গারবিল-এই তিনটি সীমান্তঘেঁষা ইউনিয়ন মাদকের সবচেয়ে বড় ট্রানজিট পয়েন্ট। এ সীমান্তে মাদকচক্রে জড়িতরা হলেন-জুয়াড়ি মানিক, মতু মিয়া ওরফে মিস্টু, রহমান ওরফে কালু, ফরিদা বেগম ওরফে মদিনা, নিলুফা, ফজলুর রহমান ওরফে বজলু, জয়, রুমেল রুনু, শাহ পরাণ, জুনায়েদ, সজল ও বাছেদ।

সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করতে গিয়ে জেলার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর উপজেলার শুধু সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশে ৬১টি মাদক স্পট পাওয়া গেছে। যেখানে হাত বাড়ালেই মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবার মতো মাদক পাওয়া যায়। তিনি বলেন, মাদক চোরাকারবারি প্রতিরোধে আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর উপজেলার গ্রাম ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের তালিকা করা হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

পদ্মা নদী থেকে বিএনপি নেতাদের বালু উত্তোলন ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া

ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া

ডেঙ্গুবাহক এডিস শনাক্ত করবে ঢাবির ‘স্মার্ট ফাঁদ’

ডেঙ্গুবাহক এডিস শনাক্ত করবে ঢাবির ‘স্মার্ট ফাঁদ’

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগী বৃদ্ধি ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন

ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন

চট্টগ্রামে পরিবহণ ভাড়া দ্বিগুণ চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে

চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম