চাঁপাইয়ে সালিশে আইনজীবীদের হামলায় আহত ৭
Advertisement
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে একটি সালিশি বৈঠকে বিরোধ কেন্দ্র করে আইনজীবীদের হামলায় ৭ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর রাত ১২টার দিকে আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে আরও দুই আহতকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট ৭ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। আহতদের ২৫০ শয্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের রোববার বিকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে আইনজীবী ও তাদের সহকারীদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, বিকালে একটি সালিশ কেন্দ্র করে বিরোধের একপর্যায়ে ইমাম হাসান বারু নামের এক ব্যক্তিকে আটকে মারধর করে আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা। এ সময় বারুর দুই ছেলে ও পরিচিত কয়েকজন তাদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরও ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়।
জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেদোয়ান আহমেদ ও স্কুলছাত্র হাসানুল বান্না আকিব বলেন, আহত ইমাম হাসান বারু আমাদের বাবা। ঘটনার পর মোটরসাইকেল আনতে গেলে আইনজীবীরা আটকে আমাদের দুই ভাইকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় স্কুলছাত্র হাসানুল বান্না আকিব তার শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন সাংবাদিকদের দেখান।
এদিকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা দুই কলেজছাত্র সিফাত ও পরশ সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনা জানার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে গেলে আমাদের মারধর করে উকিলবারের দোতলায় আটকে রাখা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এদিকে বিকালে স্টার টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান তুষার সংবাদ সংগ্রহে গেলে তাকেও আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে দোতলায় আটকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ সাংবাদিক তুষারকে উদ্ধার করতে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও লাঞ্ছিত করে আইনজীবীরা। এ ঘটনায় সালিশের বাদীপক্ষের আইনজীবী রাসেল আহমেদ রনি বলেন, একটি অর্থসংক্রান্ত মামলায় আদালতের নির্দেশে সালিশ বৈঠক চলাকালীন বেশ কয়েকজন বহিরাগত বিবাদীপক্ষের হয়ে আইনজীবীদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে আমাদের তরুণ আইনজীবীরা তাদেরও মারধর করে।
বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, সালিশের শেষপর্যায়ে বহিরাগতরা কথাকাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমি নীতিগতভাবে বিব্রত হয়ে পড়ি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, এ ঘটনায় আহত মোট ৭ জনকে উকিলবার থেকে উদ্ধার হয়েছে। গুরুত আহত দুজনকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনজনকে চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
