ব্যাগ রাখা নিয়ে কথা কাটাকাটি
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে প্রকৌশলীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটের আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে ব্যাগ রাখা নিয়ে তর্কের জেরে এক প্রকৌশলীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। দুই নারী যাত্রী চাটমোহর স্টেশনে নেমে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বখাটেদের ডেকে এনে প্রকৌশলীকে মারধর করান। শুধু তাই নয়, এ সময় প্রকৌশলীর আসনে বসে থাকা এক কিশোরকেও মারধর করা হয়। সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রকৌশলীর নাম মামুনুর রশীদ। তিনি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি ঢাকা থেকে রাজশাহী ফিরছিলেন। মারধরের শিকার অপর কিশোরের পরিচয় জানা যায়নি।
জানা যায়, ওই প্রকৌশলী কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন। পরে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে দুই নারী একই বগিতে ওঠেন। নিজেদের লাগেজ রাখার সুবিধার্থে তারা প্রকৌশলীর ট্রাভেল ব্যাগ সরিয়ে অন্য একটি ব্যাগের ওপর রাখেন। টাঙ্গাইল এলাকায় পৌঁছানোর পর বিষয়টি নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে প্রকৌশলীর কথা কাটাকাটি হয়। তখন তিনি জানতে চান, তার ব্যাগ কে সরিয়েছেন। এ নিয়ে দুই নারী যাত্রীর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রেনে দায়িত্ব পালনরত সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক শামীম আহমেদ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেন। তিনি প্রকৌশলীর আসন পরিবর্তন করে দেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করেন।
কিন্তু চাটমোহর স্টেশনে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুই নারী ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার পর একদল যুবক বগিতে উঠে আসে। তারা প্রথমে প্রকৌশলীর আসনে বসে থাকা এক কিশোরকে ভুলবশত মারধর শুরু করে। পরে প্রকৌশলী মামুনুর রশীদকে শনাক্ত করে তার ওপর হামলা চালায়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, হামলার সময় রেলওয়ে পুলিশের সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে পাওয়া যায়নি। হামলাকারীরা ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে নেমে গেলে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরবর্তী সময়ে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে আহত কিশোর তার বোনকে নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে যায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ওই দুই নারী ‘জ’ বগির ৬৪ ও ৬৫ নম্বর আসনের যাত্রী ছিলেন। শ্রীলেখা দাস নামে এক নারী টিকিট ক্রয় করেছিলেন। তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল ধরেননি। পরে তার ভাই পরিচয়ে সুদীপ্ত সাহা দীপ নামের এক ব্যক্তি যোগাযোগ করে জানান, ট্রেনে তার বোন ও স্ত্রী ভ্রমণ করছিলেন। তবে তিনি স্ত্রীর নাম প্রকাশ করতে চাননি।
সুদীপ্ত সাহা দাবি করেন, ওই প্রকৌশলী তার বোন ও স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন। এ কারণেই তারা তাকে মারধর করেছেন। তবে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘যারা হামলা করতে এসেছিল, তাদের দেখে সন্ত্রাসী মনে হয়েছে। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ার কারণেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। ছোট ছেলেটি সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছে। আমাকে ভেবে প্রথমে ওকেই মারধর করা হয়। পরে আমাকেও আঘাত করা হয়েছে। এখন আইনি জটিলতা এড়াতে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অন্য জেলায় কর্মরত একজন সরকারি কর্মকর্তা, যা হওয়ার হয়েছে। এখন মামলা-মোকদ্দমা করে নতুন ঝামেলায় জড়াতে চাই না।’
ঘটনার বিষয়ে ট্রেনে দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক শামীম আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে ব্যাগ রাখা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে দিই। উত্ত্যক্ত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ওই দুই নারী এলাকায় গিয়ে লোকজন নিয়ে এসে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।’ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। আহত কিশোরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি মামলা করতে আগ্রহী নন। সে কারণে সংশ্লিষ্ট নারী যাত্রীদের বিষয়ে আর অনুসন্ধান করা হয়নি। তবে মামলা হলে তাদের শনাক্ত করতে কোনো সমস্যা হবে না। যাত্রীদের সব তথ্য রেলওয়ের সংরক্ষিত তথ্যভান্ডারে রয়েছে।’
