Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

জিইএমকোর ১৫ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ ৩ কোটিতে বিক্রির পাঁয়তারা

Advertisement

Icon

আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জিইএমকোর ১৫ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ ৩ কোটিতে বিক্রির পাঁয়তারা

Advertisement

রাষ্ট্রয়াত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেডে (জিইএমকো) ১৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্ক্র্যাপ মাত্র তিন কোটি টাকায় বিক্রির পাঁয়তারার অভিযোগে উঠেছে। এসব স্ক্র্যাপের মধ্যে রয়েছে জিইএমকোর কারখানায় রক্ষিত ৪৬৫টি অকেজো মেশিনারিজ ও লৌহজাতীয় স্ক্র্যাপ, পুরোনো ও অন্যান্য ব্যবহার অনুপযোগী মালামাল। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সুশাসনও ব্যাহত হতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, বিনা টেন্ডারে এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে এসব স্ক্র্যাপ বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে জিইএমকোর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন। তারা এর বিরুদ্ধে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জিইএমকোর কারখানায় দীর্ঘদিন বেশকিছু মালামাল পড়ে রয়েছে। কয়েক মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা ডিপিএমে বিক্রি করার চেষ্টা করছে। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপিএম পদ্ধতিতে কোনো মালামাল বিক্রির সুযোগ নেই। এ ধরনের স্ক্র্যাপ বিক্রির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নীতিমালা পাশ কাটিয়ে স্ক্র্যাপগুলো সরাসরি বিক্রি করার চেষ্টা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোম্পানির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, স্ক্র্যাপ বিক্রির ক্ষেত্রে সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্র বা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য যাচাইয়ের নিয়ম অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। এতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নথি ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে স্ক্র্যাপ বিক্রি সংক্রান্ত কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি জিইএমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব বাণিজ্যিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম। সদস্যরা হচ্ছেন উপমহাব্যবস্থাপক ও বাণিজ্যিক বিভাগীয় প্রধান হুমায়ুন কবির, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রাণজিত পাল, উপপ্রধান প্রকৌশলী ও উৎপাদন বিভাগীয় প্রধান হায়াত মাহমুদ, বিএসইসির বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক নূরে আলম আজরফ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুহিরুল হক।

জিইএমকোর শ্রমিকনেতাদের পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, বিএসইসির নীতিমালা অনুসরণ না করে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি করা হচ্ছে। এতে বিএসইসির সিদ্ধান্ত অমান্যসহ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কাজ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। এতে সাধারণ শ্রমিক ও কর্মচারীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

জিইএমকোর সাধারণ সম্পাদক (সিবিএ) মেহেদী হাসান যুগান্তরকে বলেন, বিএসইসির নীতিমালা লঙ্ঘন করে এসব স্ক্র্যাপ বিক্রি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কী কারণে টেন্ডার ছাড়া করা হচ্ছে, আমাদের জানা নেই। তাই বিএসইসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ বিষয়ে জানতে জিইএমকোর এমডি আশরাফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

২৪ ঘণ্টায় ৪ প্রাণহানি দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিনশ ছুঁইছুঁই

দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিনশ ছুঁইছুঁই

মুক্তায় নজরুলের রুপালি বিপ্লব

মুক্তায় নজরুলের রুপালি বিপ্লব

সচিবালয়ে সক্রিয় সিন্ডিকেট কোম্পানিকে ডিও লেটার প্রতিমন্ত্রী জানেন না

কোম্পানিকে ডিও লেটার প্রতিমন্ত্রী জানেন না

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার আলোর পেছনে ভয়ংকর অপরাধীচক্র

আলোর পেছনে ভয়ংকর অপরাধীচক্র

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম