ফটোসেশনে সামনে দাঁড়ানো
বিএনপি নেতাকে পেটাল যুবদল কর্মীরা
Advertisement
ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে আয়োজিত বৃক্ষমেলায় ফটোসেশনকে কেন্দ্র করে জেলার শীর্ষ নেতাদের সামনে বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে মাথায় গেঞ্জি প্যাঁচিয়ে পিটিয়েছে যুবদল কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফতুল্লার চাঁনমারী এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়। আহত অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
হামলার শিকার অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ফটোসেশন করছিলেন। এ সময় আমিও তাদের পাশে দাঁড়াই। তখন হঠাৎ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি আমাকে প্রশ্ন করে বলেন, আপনি গত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন। এ সময় এক কথায় দুই কথায় রনির সঙ্গে আমার তর্ক বাধে। পরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু আমাদের শান্ত করে মিলিয়ে দেন। এরপর আমি বের হয়ে জেলা পরিষদের সামনে নামাজের জায়গা খুঁজতে থাকি। তখন হঠাৎ করেই রনির লোকজন আমার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারী যুবদল কর্মীরা আমার পরনের গেঞ্জি টেনে আমার মাথায় প্যাঁচিয়ে মারতে থাকে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করায় প্রাণে বেঁচে গেছি। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।’
এ বিষয়ে জানতে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, বিষয়টি প্রথমে আমরা মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। পরে বাইরে গিয়ে আবার হামলা করা ঠিক হয়নি। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি জুলাই আন্দোলনের পর ফতুল্লার বিসিক নগরীর গার্মেন্টসের ঝুট সেক্টর দখল করতে শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমীরী ওসমানের সহযোগী রকমতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে সমালোচনায় আসেন। এরপর চাঁদনী হাউজিংয়ে একটি গার্মেন্টসের ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। এতে শিশুসহ এক বিএনপি নেতার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় রনি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। এছাড়াও জেলার শীর্ষ নেতাদের কাছে রনির বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। এসব বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রনি দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন।
