হাওড়ে পর্যটকবাহী ২ ট্রলারে ডাকাতি
মারধর করে অস্ত্রের মুখে ৫০ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ লুট!
Advertisement
কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওড়ে দুটি পর্যটকবাহী ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ২০-২৫ জনের ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি রেখে মারধর করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ অন্তত ৫০ লাখের বেশি টাকার সম্পদ লুটে নেয়। এ সময় নারীদের শ্লীলতাহানিও করা হয়। রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হাসানপুর হাওড়ে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ডাকাতির শিকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরের চিলেকোঠ গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা ঘাটে পৌঁছে টুরিস্ট পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
হাওড় পরিদর্শন শেষে মিঠামইন উপজেলা সদর থেকে এ দুটি যাত্রীবাহী ট্রলারে ৬০-৬৫ জন পর্যটক করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা ঘাটে আসছিলেন। সেখান থেকে তাদের কিশোরগঞ্জ শহর হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু, মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর হাওড় এলাকা অতিক্রমকালে ডাকাতরা অন্য একটি ট্রলারে এসে পথ অবরোধ করে ট্রলারে উঠে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি এবং মারপিট করে। এ সময় কয়েকজন নারী হয়রানি ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ডাকাত দলের কবলে পড়া ট্রলারের যাত্রী কিশোরগঞ্জ শহরের রথখোলা এলাকার ব্যবসায়ী সদর উপজেলার বিন্নাটি গ্রামের রহমত আলীর ছেলে রাজিব। তিনি বলেন, তার ট্রলারে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জামালপুর, কুমিল্লা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও করিমগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৪০ জন পর্যটক ছিলেন।
বালিখলা ঘাটে কর্তব্যরত টুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, টুরিস্ট পুলিশ তো মামলা নিতে পারে না, তাই ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে মিঠামইন থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের মিঠামইন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী বলেন, এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় আসেনি, তবে খবরটি পেয়েছি। এ ঘটনায় নৌ এবং টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। আমরাও ছায়া তদন্ত করছি। সরকারি কাজে ঢাকায় অবস্থানরত কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই তিনি জেনেছেন। মিঠামইন থানা পুলিশকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
