এজিএমে এমডি
পূবালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মাত্র ২ শতাংশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৫ সাল শেষে পূবালী ব্যাংকের নন পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা ঋণ খেলাপি হয়েছে মাত্র ২.২০ শতাংশ, যেখানে পুরো ব্যাংক খাতেই খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে ৩০ শতাংশ। ডেটানির্ভর মনিটরিং, বিচক্ষণ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আলী। সম্প্রতি ব্যাংকের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
এতে বলা হয়, ২০২২ সালে যেখানে ব্যাংকের শেয়ার দর ১৬ থেকে ২০ টাকায় অবস্থান করছিল, বর্তমানে তা ৩৭ টাকারও ঊর্ধ্বে। একই সঙ্গে ধারাবাহিক স্টক ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন প্রায় ১ হাজার কোটি থেকে প্রায় ৫৬% বেড়ে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ফলে ২০২২ সালের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের বাজারমূল্য তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে।
মোহাম্মদ আলী বলেন, পিআই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ২০২৫ সাল শেষে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২৭৬ জন সক্রিয় ব্যবহারকারী অর্জন করেছে। প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে ১ কোটি ৮৬ লাখ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বছরওয়ারি হিসাবে ব্যবহারকারী বেড়েছে ৭৮ শতাংশ এবং লেনদেন বেড়েছে ১১৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পজ টার্মিনাল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৫২৫তে এবং ১ কোটি ৪৫ লাখের বেশি বাংলা কিউআর স্থাপনের মাধ্যমে নগদহীন লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও বিস্তৃত করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকের ৫১৭টি শাখা, ২৭৪টি উপশাখা, ২২টি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো এবং ৯০১টি এটিএম বা সিআরএম কার্যকর ছিল। সেলফ সার্ভিস ব্যাংকিং ও ডিজিটাল অনবোর্ডিং সুবিধা গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকিংকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বনির্ভর করেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকের মোট সম্পদ ২০.২৫ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৫২০ কোটি টাকা এবং ঋণ ও অগ্রিম বেড়ে হয়েছে ৭১ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। একই সময়ে একীভূত পরিচালন মুনাফা ২ হাজার ৯০৭ কোটি ৫৭ লাখ এবং কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১ হাজার ৭৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
২০২৫ সালে ব্যাংকের আর্নিং পার শেয়ার (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮.৩০, রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) ১৫.৫১ এবং রিটার্ন অন অ্যাসেট (আরওএ) ১.০০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেট রেশিও (সিআরএআর) ১৫.৩৪ শতাংশে অবস্থান করেছে, যা নিয়ন্ত্রক ন্যূনতম সীমার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং ব্যাংকের মূলধনি শক্তি ও স্থিতিশীলতার পরিচায়ক। ২০২৫ সালে ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত রপ্তানি ব্যবসা ৩৮ হাজার ৬৬৪ কোটি, আমদানি ব্যবসা ৪৭ হাজার ৩১৪ কোটি এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স ১১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইএসজি ও টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে পূবালী ব্যাংক। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের প্রায় ৩০ শতাংশ সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স পোর্টফোলিও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া ৪১১টি শাখা এবং ৪৫৩টি এটিএম বা সিআরএম-এ সৌরশক্তির ব্যবহার, ৩৭টি এলআইইডি-সার্টিফাইয়েড ফ্যাক্টরিতে অর্থায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ২০২৬-২০২৮ কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় পূবালী ব্যাংক প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ব্যাংকিং মডেল বাস্তবায়নে কাজ করছে। ২০২৬ সালে ব্যাংকটি একটি ইয়ার-লং ক্যাশলেস ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে, যার মাধ্যমে রিটেইল, হেলথ, এডুকেশন, করপোরেট এবং সিএমএসএমই খাতে ডিজিটাল লেনদেন আরও সম্প্রসারিত হবে।
