Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড

সোনালি সেবায় সিন্ডিকেট কোটি টাকা লোপাট

Advertisement

Icon

মাহবুব রহমান, রংপুর

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের স্কুল শাখার বিদ্যালয় পরিবর্তন (টিসি) ফি ও অফিস খরচের নামে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেট। বোর্ডের ‘সোনালি সেবা’র নামে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিসির জন্য নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা না করে ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোর্ডে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী চলতি বছরে অষ্টম শ্রেণিতে স্কুল পরিবর্তনের (টিসি) জন্য আবেদন করেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সোনালি সেবার নামে ১ হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট নির্ধারণ করা ছিল। বোর্ডের সচিবের অনুকূলে ওই টাকা জমা করার কথা থাকলেও তা না করে নগদ টাকা নেওয়া হয়। সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭শ জনের নগদ টাকা জমা করা হয় বোর্ডের ব্যাংক হিসাবে। অবশিষ্ট ৩ হাজার ৮শ শিক্ষার্থীর টাকা বোর্ডের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করে টিসির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৮শ শিক্ষার্থীর শুধু বোর্ড নির্ধারিত ফি দাঁড়ায় ৩৮ লাখ টাকা এবং অফিস খরচের নামে অতিরিক্ত ৬৪ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ মোট ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সার্ভারের কোড পরিবর্তনের মাধ্যমে বিশেষ কায়দায় ওই দুর্নীতি করা হয়েছে। এই পরিমাণ টাকা নগদ গ্রহণ করা হলেও শিক্ষার্থীদের নামে কোনো ব্যাংক রসিদ দেওয়া হয়নি।

এই অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে বোর্ডের স্কুল শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদ সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট জড়িত বলে তথ্য মিলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোর্ডে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণির টিসির জন্য সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করে। এজন্য বোর্ডের নির্ধারিত ফি বাবদ প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বোর্ডের সচিব বরাবর ১ হাজার টাকার ‘সোনালি সেবা’ খাতে বোর্ডের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা বোর্ডের বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা ১ হাজার টাকা ফি ছাড়াও অফিস খরচ বাবদ আরও ২০০০ টাকা লাগবে বলে জানান। এভাবে অতিরিক্ত ৬৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ‘সোনালি সেবা’র ফির টাকা বোর্ডের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়েই নোটে বিদ্যালয় পরিদর্শক আমিনুল হকের স্বাক্ষর নিয়ে নেয় তারা। পরে এই চক্রের আরেক সদস্য বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরীকে দিয়ে বোর্ডের মূল সার্ভারের কোড পরিবর্তন করে টিসির কাজটি সম্পন্ন করা হয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ শিবরাম স্কুলের শিক্ষক তাহের উদ্দিন বলেন, তিনি বোর্ডের বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুলকে ১৯ জনের টিসির নগদ ৩৮ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। তবে তাকে কোনো ব্যাংক রসিদ দেওয়া হয়নি। এছাড়া তিনি প্রতিজনের বিপরীতে অফিস খরচ বাবদ ১০০০ টাকা দিয়েছেন। কাজ হয়ে গেছে বলে কোনো খোঁজ নেননি।

রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০০ শিক্ষার্থী টিসির জন্য নির্ধারিত ফি ও অফিস খরচ বাবদ নগদ ২৫০০ টাকা করে জমা দিলেও তাদের বেশির ভাগই কোনো ব্যাংক জমা রসিদ পায়নি। একইভাবে রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০ শিক্ষার্থী ব্যাংক রসিদ পায়নি বলে জানান স্কুলটির অধ্যক্ষ ইমরুল হাসান।

জানা গেছে, বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন শাখার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। তবে ওই কর্মচারী বলেন, ‘আমি টাকা সংগ্রহ করে স্যারদের হাতে দিয়েছি তারা কী করেছেন জানি না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক বলেন, বোর্ডের কন্ট্রোলার অধ্যাপক বোরহানউদ্দিনের নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছে। তবে কন্ট্রোলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি বিদ্যালয় পরিদর্শকই জানেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াছ আহমেদ বলেন, ‘বোর্ডের অনেক কাজের ব্যাপারে আমি জানি না। যারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন এবং যাদের দায়িত্ব ছিল তারাই এ নিয়ে বলতে পারবেন।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সোনালি সেবায় সিন্ডিকেট কোটি টাকা লোপাট

সোনালি সেবায় সিন্ডিকেট কোটি টাকা লোপাট

বাংলার মাটির সুরে মুগ্ধ নরওয়ের কবি ছয়শ শিশুর ‘গানের মানুষ’ উয়েরা

ছয়শ শিশুর ‘গানের মানুষ’ উয়েরা

রংপুর শিক্ষা অফিসের দুর্নীতি দুই শতাধিক ফাইল সরানোর সময় পুলিশের হাতে আটক

দুই শতাধিক ফাইল সরানোর সময় পুলিশের হাতে আটক

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম