Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

রংপুর শিক্ষা অফিসের দুর্নীতি

দুই শতাধিক ফাইল সরানোর সময় পুলিশের হাতে আটক

Advertisement

Icon

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালকের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ার পর দুই শতাধিক ফাইল অন্যত্র সরানোর চেষ্টা হয়েছে। পুলিশের হাতে আটকের পর বিষয়টি জানাজানি হলে ফাইলগুলো পুনরায় অফিসে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ওই অফিসের এমপিওভুক্তি নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির খবর যুগান্তরে প্রকাশিত হয়। এই খবর প্রকাশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় ২৯ সেপ্টেম্বর ওই পরিচালকের কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

যুগান্তরে ২২ আগস্ট ‘রংপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস/ঘুস-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য, অনিয়মের মহোৎসব’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে দুদকের অভিযানের পর সেখান থেকে দুই শতাধিক কলেজ ও স্কুলের শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্যসংশ্লিষ্ট ফাইল অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার সকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালকের কার্যালয়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকের দুই শতাধিক ফাইল পার্শ্ববর্তী নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। চারটি বস্তায় ভরা এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি কীভাবে সেখানে গেল এবং কেনইবা সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল-তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর অনিয়মের অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানা যায়। পরে দুদক পরিচালকের কার্যালয়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল জব্দ করে। একই সঙ্গে আরও কিছু ফাইল তলব করা হলে সংশ্লিষ্টরা সেসব ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না বলে দুদককে জানায়।

এর কয়েকদিন পরই সোমবার কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া হতে চারটি বস্তা থেকে ফাইল উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়মের তথ্য আড়াল করতেই এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। তবে ফাইলগুলো কী উদ্দেশ্যে সেখানে নেওয়া হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রংপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন হোসেন। তিনি জানান, এক ব্যক্তি চারটি প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে যাওয়ার সময় টহল পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ তাকে থামতে বললে তিনি বস্তাগুলো ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে বস্তার মুখ খুলে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকদের ফাইল পাওয়া যায়। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালককে জানানো হয়। পরে তিনি লোক পাঠিয়ে সেগুলো অফিসে ফিরিয়ে আনেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মতলুবর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া ফাইলগুলো তাদের অফিসের নয়। এগুলো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালকের কার্যালয়ের ফাইল। তিনি বলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস দ্বিতীয় তলায় এবং আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ও একই ভবনের দোতলায়। ভবনের নিচতলায় আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের একটি গুদাম রয়েছে। ওই গুদামের জানালা ভেঙে কেউ ফাইলগুলো বের করে নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদ বলেন, ফাইলগুলো কীভাবে অফিসের বাইরে রাস্তায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া ফাইলগুলোর সঙ্গে দুদকের অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, এসব ফাইল হারিয়ে গেলেও শিক্ষকদের কোনো সমস্যা হবে না। কারণ, আমাদের অনলাইনে ও স্ব-স্ব কলেজে ফাইলগুলো রক্ষিত আছে।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি এভাবে অফিসের বাইরে পাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফাইলগুলোতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে এবং এগুলো কার নির্দেশে বা কী উদ্দেশ্যে সরানো হয়েছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সোনালি সেবায় সিন্ডিকেট কোটি টাকা লোপাট

সোনালি সেবায় সিন্ডিকেট কোটি টাকা লোপাট

বাংলার মাটির সুরে মুগ্ধ নরওয়ের কবি ছয়শ শিশুর ‘গানের মানুষ’ উয়েরা

ছয়শ শিশুর ‘গানের মানুষ’ উয়েরা

রংপুর শিক্ষা অফিসের দুর্নীতি দুই শতাধিক ফাইল সরানোর সময় পুলিশের হাতে আটক

দুই শতাধিক ফাইল সরানোর সময় পুলিশের হাতে আটক

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ বেড়েছে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম