রাজশাহীতে আলোড়ন
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাসায় যুবক গুলিবিদ্ধ
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মীর তারেকের ভাড়া বাসায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ফয়সাল বাঁধন (৩০) নামের এক যুবক। রোববার সকালে ঘটনার সময় সেখানে মীর তারেকসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধ বাঁধন মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতেও তার সঙ্গে ছিলেন। বাঁধনের মোটরসাইকেলেই চলাচল করেন মীর তারেক। ঘটনার পর বাঁধনকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, তার নাভির সামান্য ওপরে পেটে গুলি লাগে। বেলা ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয় এবং পাঁচ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা বলেছেন। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করা গুলিটি পিস্তলের বলে মনে করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, গুলির খোসা, ককটেল সদৃশ বস্তু এবং কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসাটি কার নামে ভাড়া নেওয়া কিংবা সেখানে কারা নিয়মিত অবস্থান করেন সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন, এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সূত্রে জানা গেছে, পাঁচতলা ভবনটির মালিক রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি সাঈদ আল মারজুখের বাবার। ভবনের পঞ্চম তলাটি মীর তারেক ভাড়া নিয়েছিলেন। পাঁচতলার নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও একটি কক্ষ ব্যবহার উপযোগী ছিল। মূলত সেই কক্ষেই তিনি নিয়মিত বসতেন। গুলির সময় মীর তারেকসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তারা স্থান ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রদল নেতা সাঈদ আল মারজুখের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কলা দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে মীর তারেকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, বাসাটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা বা এমন কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
