খুলনা চেম্বার নির্বাচন
বিএনপি নেতার প্যানেলে আ.লীগের প্রভাবশালীরা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী অনেক নেতাই আসন্ন খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচনে বিএনপির প্যানেলে ঢুকে পড়েছেন। তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতোমধ্যেই মনোনয়নপত্রও নিয়েছেন। এ তালিকায় খুলনা সিটির সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেকের ঘনিষ্ঠ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাসহ প্রভাবশালীরা রয়েছেন। দীর্ঘ নয় বছর পর খুলনা চেম্বারে ভোটের উৎসব শুরু হলেও ফ্যাসিবাদের দোসরদের এভাবে বিএনপিতে ঢুকে পড়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। এর আগে শেখ বাড়ির ইঙ্গিতে চেম্বার পরিচালনা বোর্ডের কমিটি গঠিত হতো। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতারা চেম্বারের সহসভাপতি, পরিচালকসহ একাধিক পদ বাগিয়ে নিতে বিএনপির ঘাড়ে উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোটাররা। পতিত সরকারের আমলে যারা চেম্বারের নেতৃত্বে ছিলেন তাদের এখন আর ক্ষমতায় দেখতে চান না ভোটাররা। ২২ আগস্ট এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
জানা যায়, ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আমিনুল হক। তিনি দেশ ছেড়েছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে একইভাবে সবাই মনোনীত হয়েছিলেন। অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার। এরপর শুরু হয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। নির্বাচনে জয়ী হতে আগ্রহী প্রার্থীরা ভোটার বানানো শুরু করেন। চেম্বারে ৬৯৭ জন নতুন সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হন। ৩ জুলাই নতুন সদস্যদের বিষয়ে আপত্তি জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী। পরে আপিল বোর্ডের শুনানিতে তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর ৯ জুলাই তারা এফবিসিসিআইয়ের আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। এই ঘটনার ট্রাইব্যুনালের সচিব মো. আলমগীর ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে চেম্বারের বর্তমান প্রশাসক আবু সায়েদ মো. মনজুর আলমের কাছে সব তথ্য চেয়েছেন।
চেম্বার নির্বাচনে সভাপতি পদে বিএনপি নেতা তারিকুল ইসলাম জহীর ও কাজী হাফিজুর রহমান মনোনয়ন নিয়েছেন। তবে হাফিজুর একটি প্যানেল করলেও জহীর এখনো প্যানেল ঘোষণা করেননি। হাফিজের প্যানেলে শেখ পরিবারের সঙ্গে সখ্য আছে এমন একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছেন।
হাফিজের প্যানেলে ঊর্ধ্বতন সহসভাপতির একটি পদের বিপরীতে যে চারজন মনোনয়ন নিয়েছেন তাদের মধ্যে ২১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আসাদুর রহমান রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে খুলনা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জানতে চাইলে শেখ আসাদুর রহমান যুগান্তরকে বলেছেন, তিনি কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এছাড়া পরিচালকের ২১ পদের বিপরীতে যে ৫০ জন ব্যবসায়ী মনোনয়ন নিয়েছেন তাদের মধ্যে ২১নং ওয়ার্ড ও ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন মহানগর বিএনপির সভাপতির বাসভবনে হামলা মামলার আসামি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনে যে আরেকটি প্যানেল হচ্ছে সেখানেও আওয়ামী লীগ আমলের প্রভাবশালী নেতারা থাকছেন বলে জানা গেছে। দু-এক দিনের মধ্যেই ওই প্যানেল ঘোষণা করা হবে। এদিকে খুলনার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে। এমনকি সন্ত্রাসীরা এসে মার্কেট বন্ধও করে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের এমন অসহায় অবস্থা আগে কখনো হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা নির্বাচিত ছিলেন তারাও প্রার্থী হচ্ছেন। তাহলে তো পরিবর্তন আসল না। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যৌথভাবে ভোটের প্রচারণায় যুক্ত। সেটি আবার সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক তারিকুল ইসলাম জহীর যুগান্তরকে বলেন, বেনামি ভোটার তৈরি করা সুখকর খবর নয়। আইনিভাবেই ভোটার বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রার্থীরা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য অনেক কৌশল অবলম্বন করে আপিলও করেছেন। ব্যবসায়ীরা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন-এই প্রত্যাশা করছি। আমি কোনো প্যানেল করিনি।
মহানগর বিএনপির সাবেক নেতা কাজী হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, আমার প্যানেলে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কেউ আছে কিনা তা আমার জানা নেই। আমি বিভিন্ন কারণে খুলনা ছেড়েছিলাম। আমার বিদেশে ব্যবসাসহ দেশে ঠিকাদারি ফার্ম রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে হত্যা মামলা হয়েছিল সেখান থেকে খালাস পেয়েছি। দীর্ঘদিন আমি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের খুলনা বিভাগের পরিচালক ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. শাহীনুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, নতুন ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কিনা এখনো বলা যাচ্ছে না। এটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়েছে। আমরা অতি দ্রুত সুষ্ঠু একটি নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করছি। নির্বাচনে এখন অবধি ১ হাজার ৭০৫ জন ব্যবসায়ী ভোট দেবে।

