Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

জলবায়ু সংকটে বড় বিপদে বাংলাদেশ

অর্থনীতির বিরাট ক্ষতি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা

Advertisement

Icon

নেসারুল হক খোকন, নিউইয়র্ক থেকে ফিরে

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

তাপপ্রবাহ, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য বড় হয়ে উঠছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অর্থনীতি বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাপজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণে শুধু ২০২৪ সালেই ক্ষতি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলার বা ২১ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় অর্থপ্রবাহ অনেক কম থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে বাঁধ ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের আগাম সতর্কতা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অধিবেশনে সভাপতি ড. খলিলুর রহমান সতর্ক করেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হতে পারে, যা দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩ শতাংশ। তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাংলাদেশে শুধু পরিবেশের বিষয় নয়; মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা, অবকাঠামো ও ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত।

জলবায়ু ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। তিনি বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। তিনি বলেন, জলবায়ু অভিযোজনের জন্য চলতি বাজেটে প্রায় ৩১৯ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ রেখেছে তার সরকার। আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধির হারও দ্রুত বেড়েছে। ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ২ দশমিক ১ মিলিমিটার করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লেও ২০১৫ থেকে ২০২৪ সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭ মিলিমিটারে। অর্থাৎ উপগ্রহের মাধ্যমে পরিমাপের প্রথম দশকের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি। তার হিসাবে, ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন ১০০ কোটির বেশি মানুষ।

অভিযোজন অর্থায়নে বড় ঘাটতি : জাতিসংঘের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৩১০ বিলিয়ন থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা বিনিময় হার ধরে এর পরিমাণ প্রায় ৩৮ লাখ ১৬ হাজার কোটি থেকে ৪৪ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। অথচ ২০২৩ সালে এসব দেশে আন্তর্জাতিক সরকারি উৎস থেকে অভিযোজনের জন্য অর্থ এসেছে মাত্র ২৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার মতো কাজে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তাপপ্রবাহে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও স্পষ্ট হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের ‘অ্যান আনসাসটেইনেবল লাইফ : দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ, শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০ সালের পর থেকে দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর্দ্রতাসহ অনুভূত তাপমাত্রা বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তাপজনিত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে দেশে কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৩ কোটি থেকে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার ৩৬৪ কোটি থেকে ২১ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতি ২০২৪ সালের মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রায় শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের সমান। বিশ্বব্যাংক ১৯৭৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রবণতা বিশ্লেষণ এবং ২০২৪ সালে ১৬ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

জলবায়ু অভিবাসী বাড়ার শঙ্কা : বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ২০২২ সালের কান্ট্রি ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট বলছে, কৃষি ও জীবিকার ওপর জলবায়ুর প্রভাব, পানির সংকট এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আগামী কয়েক দশকে ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারেন। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে উপকূলীয় এলাকার পরিবারগুলো বসতভিটা ও জীবিকার উৎস হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

চরম আবহাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকি : বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতা ও চরম আবহাওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি খাতের জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে বছরে গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের (প্রায় ১২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। তীব্র বন্যার পরিস্থিতিতে জিডিপি সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

জলবায়ু সংকটে বড় বিপদে বাংলাদেশ অর্থনীতির বিরাট ক্ষতি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা

অর্থনীতির বিরাট ক্ষতি বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা, লাশ চার টুকরো

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা, লাশ চার টুকরো

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান কুমিল্লায় আটক ৩৫৩ জন বগুড়ায় গ্রেফতার ২

কুমিল্লায় আটক ৩৫৩ জন বগুড়ায় গ্রেফতার ২

পরাজিত শক্তি স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী

পরাজিত শক্তি স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম