কালীগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে বাধা
যুগান্তর প্রতিনিধিসহ দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা
Advertisement
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে থানার সামনে শাহরিয়ার আলম সোহাগ ও মিশন আলী নামের দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ওই দুই সাংবাদিক কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আহত সাংবাদিক সোহাগ দীপ্ত টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও যুগান্তরের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এবং মিশন আলী নাগরিক টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।
সাংবাদিক মিশন আলী বলেন, শহরের আড়পাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা কেন্দ্র করে মিলন হোসেন নামে এক যুবককে মারধর করে এলাকার কয়েক যুবক। এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আড়পাড়া এলাকার মিঠু ও ইয়াসিন নামের দুই যুবককে থানায় তুলে নিয়ে আসে পুলিশ। রাতে এলাকাবাসী থানায় আসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলার জন্য। এ সময় ওসি জেল্লাল হোসেন কৃষক দলের বহিষ্কৃত নেতা জালাল উদ্দিন ও শাহীন লস্করকে ফোনে থানায় ডেকে আনেন। এ খবর পেয়ে রাত ৯টায় সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কালীগঞ্জ থানার সামনে যান সোহাগ। এ সময় যুবদল ও কৃষক দলের কয়েক নেতাকর্মী থানায় আসা মহিলাদের ওপর হামলা করে। হামলার ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ভিডিও করতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে জালাল উদ্দিন বিএনপিদের কোনো ভিডিও করা যাবে না বলে সাংবাদিকদের হুমকি দেন। এরপর জালাল প্রথমে আমার ওপর হামলা করেন। এরপর ইসলামী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখার স্টাফ কমলাপুর গ্রামের হাসান, নদীপাড়ার টিটো এবং ফারাসপুর গ্রামের রবিউল আমাকে মারধর করে।
সোহাগ আরও বলেন, ওসির মাদক নিয়ে বাণিজ্য ও আসামির মোবাইল গায়েব নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় ওসি তার পেটোয়া বাহিনী দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ বিষয়ে কৃষক দল নেতা জালাল উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, আড়পাড়া গ্রাম থেকে মাদক মামলার আসামি আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এ খবর পেয়ে ওই গ্রামের নারী ও পুরুষরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ডেকে গ্রামের মানুষগুলোকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করি। এসময় কৃষক দলের জালালসহ কয়েকজন নারীদের গাড়িতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় সাংবাদিকরা ভিডিও করলে বিএনপি নেতারা তাতে বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কি হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমি বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেই। সাংবাদিকদের আমরা নিরাপত্তা দিয়েছি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার বা কোনো সহকর্মীর বিরোধ নেই। সাংবাদিকরা একটি এজাহার দিয়েছেন।
দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইদহ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নাসিম আনসারিসহ জেলার সিনিয়র নেতারা।
