Logo
Logo
×
   

নগর-মহানগর

হুমায়ূন আহমেদের চলে যাওয়ার ১৪ বছর আজ

নুহাশপল্লী, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে স্মরণানুষ্ঠান

মুহম্মদ আকবর

মুহম্মদ আকবর

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হুমায়ূন আহমেদের চলে যাওয়ার ১৪ বছর আজ

ফাইল ছবি

‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে লেখক হিসাবে জানান দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। এরপর থেকে যা-ই লিখেছেন, যা-ই নির্মাণ করেছেন, তা মানুষের মনে ব্যাপকভাবে স্পর্শ করেছে। লেখায় সহজসরল ভাষার উপস্থিতি, অযাচিত রাজনীতি পরিহার, জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্র ফুটিয়ে তোলা এবং মধ্যবিত্ত জীবনের আবেগ-অনুভূতিকে অবিরাম তুলে ধরেছেন। যে কারণে দেশের সীমানা পেরিয়ে সমগ্র বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে যান এই লেখার জাদুকর। আজ ১৯ জুলাই, পরলোকে চলে যাওয়ার ১৪ বছর হলো, তবুও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং গবেষকরা তার সৃষ্ট কথাসাহিত্য, নাটক, গান ও সিনেমার নানা মাতৃক বিশ্লেষণে নতুন রস আহরণ করছেন। নতুন প্রজন্ম এখনো নতুন হিমু ও মিসির আলী সিরিজসহ নানা লেখার সন্ধান করছেন। কিছু তরুণ তো ‘মিসির আলী পরিবহন’ নামে একটি সংগঠন সৃষ্টি করে তার জীবন ও কর্ম অন্বেষণ করে যাচ্ছেন। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার নিজ জেলা নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন স্থানে স্মরণসভা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও সাহিত্যভিত্তিক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। লেখকের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তার প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠে আজ সকাল ৭টা থেকে বিকাল পর্যন্ত রয়েছে হুমায়ূন স্মরণানুষ্ঠান। কর্মসূচির বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, কুরআন খতম, কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র‌্যালি, প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা, মিলাদ ও দোয়া, বৃক্ষরোপণ, কুইজ প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দেওয়ালিকা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে গুণী এই মানুষটিকে স্মরণ করবেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

বিকালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা রোড এলাকায় রিপোর্টার্স ক্লাব কার্যালয়ে সাহিত্য সংগঠন ‘চর্চা সাহিত্য আড্ডা’র উদ্যোগে দোয়া, আলোচনা, হুমায়ূন আহমেদের লেখা থেকে পাঠ ও তার রচিত গান পরিবেশিত হবে বলে জানিয়েছেন চর্চার সমন্বয়কারী রহমান জীভন। হিমু পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মুরাদ যুগান্তরকে জানান, তাদের একটি প্রতিনিধিদল হুমায়ূন আহমেদের নন্দনকানন নুহাশপল্লীতে তার সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাবে। এছাড়া নুহাশপল্লীর পক্ষ থেকে কুরআন খতম, দোয়া ও হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় খাবার ৩০০-৪০০ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে খাওয়ানো হবে। অন্যদিকে হুমায়ূন আহমেদের অসংখ্য গ্রন্থের প্রকাশনা সংস্থা অন্য প্রকাশের কর্ণধার মাজহারুল ইসলাম জানান, তাদের প্রকাশনার পক্ষ থেকে অনলাইনে নানা আয়োজন আছে। এছাড়া নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা জানাতেও যাবেন তারা। এদিকে কবি ও সংগঠক রইস মনরম জানিয়েছেন, হুমায়ূন আহমেদের জন্মস্থানে (মামার বাড়ি) তেমন কোনো আয়োজন নেই। তবে তাৎক্ষণিক উদ্যোগে গান ও আলোচনা হতে পারে। বরেণ্য এই লেখকের ছোট ভাই রম্যলেখক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব জানান, পরিবারের অনেকেই দেশের বাইরে। তাই তেমন কোনো আয়োজন নেই। চট্টগ্রামের স্কেচ গ্যালারি নন্দনে আজ সন্ধ্যায় লেখকের উপন্যাস ‘সাজঘর’ অবলম্বনে নাটক ‘সাজঘর’ মঞ্চায়ন হবে বলে জানা গেছে। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে (মামাবাড়িতে) জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ।

তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়েজুর রহমান এবং মা আয়েশা ফয়েজ। হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নকালে লেখালেখির সূচনা। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ এবং ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত ‘শঙ্খনীল কারাগার’ তাকে বাংলা সাহিত্যে শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে।

প্রায় পাঁচ দশকের সাহিত্যজীবনে তিনি উপন্যাস, গল্প, কিশোর সাহিত্য, বিজ্ঞান কল্পকাহিনি, ভ্রমণকাহিনি ও আত্মজৈবনিক রচনাসহ বিপুল সাহিত্যভান্ডার সৃষ্টি করেন। তার সৃষ্ট মিসির আলি, হিমু ও শুভ্র চরিত্র বাংলা সাহিত্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, টেলিভিশন নাটক এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমেও তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিসরে অসামান্য অবদান রাখেন। শিক্ষক হিসাবেও তার কর্মজীবন ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীকালে পূর্ণকালীন লেখালেখিকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি সাহিত্যিক।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .