ববিতে বেপরোয়া র্যাগিং আতঙ্কে নবীন শিক্ষার্থীরা
Advertisement
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বেপরোয়া র্যাগিংয়ে ২৫টি বিভাগে নতুন ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৫৭০ শিক্ষার্থী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সেশন বা পরিচিতিপর্বের নামে প্রায় প্রতিদিনই কোনো-না-কোনো বিভাগের ইমিডিয়েট সিনিয়র শিক্ষার্থীরা নবীনদের ডেকে নিয়ে র্যাগিং দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দুটি ঘটনা প্রকাশ্যে এলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। র্যাগিং ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে ববি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নবীন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পরপরই পরিচিতিপর্বের নামে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে ডেকে বিভিন্নভাবে র্যাগিং দেওয়া হচ্ছে। ২৫ বিভাগের অধিকাংশের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমিডিয়েট সিনিয়রদের একটি অংশ এ র্যাগিং দিচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ১৫ জুলাই। আইন বিভাগের অর্ধশত শিক্ষার্থীকে পাঁচ ঘণ্টা র্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ক্যাম্পাসের বাইরে নির্মাণাধীন একটি ভবনে নিয়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠতে নিষেধ করা হয়। এছাড়া হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও ঘড়ি কেড়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়। কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী র্যাগিংয়ে দ্বিমত পোষণ করায় তাদেরও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে একজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর ববি কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পান। পরে আইন বিভাগের ইমিডিয়েট সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ভাটার খালপাড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ভবনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের একদল ইমিডিয়েট সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা ববি প্রক্টরকে জানান। তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়। সেখানে এক নবীন শিক্ষার্থীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে ববির মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নবীন ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সুস্মিতা রায়কে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এরপরও প্রায় প্রতিদিনই কোনো-না-কোনো বিভাগের ইমিডিয়েট সিনিয়রদের একটি পক্ষ নবীনদের ক্যাম্পাসে র্যাগিং দিচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে নবীন শিক্ষার্থীরা ভয়ে মুখ না খোলায় অধিকাংশ ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে না। এরই মধ্যে রোববারও ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেটে একটি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের বিকাল ৪টায় হাজির থাকতে নির্দেশ দেন ইমিডিয়েট সিনিয়ররা।
র্যাগিংয়ের শিকার একাধিক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসের নিয়ম শেখানোর নামে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করেন। অনেকে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞানও হয়ে গেছেন। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না।’ একাধিক ইমিডিয়েট সিনিয়র শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসের নিয়মকানুন জানানো ও পরিচিত হওয়ার জন্য সেশনের আয়োজন করা হয়।’
ববির সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। র্যাগিং ঠেকাতে ববি প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’ ববি উপাচার্য ড. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
