Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

সংঘর্ষের পর কাটছে না আতঙ্ক

ছাত্রদল-শিবিরের কর্মসূচিতে উত্তপ্ত জবি ক্যাম্পাস

বিএম কলেজে হাতাহাতি, ববিতে থমথমে পরিবেশ

Advertisement

Icon

বরিশাল ব্যুরো ও জবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) মঙ্গলবার ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। বৃহস্পতিবারও ছাত্রদল এবং শিবির ও ছাত্রশক্তির পালটাপালটি কর্মসূচিতে দিনভর উত্তপ্ত ছিল ক্যাম্পাস। সকাল থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে হয় শিক্ষার্থীদের। তবে পোগোজ স্কুলসংলগ্ন গেট, বাংলাবাজার ও ইসলামপুর সংলগ্ন ২নং ও ৩নং গেট খোলা ছিল। এই তিন ফটক দিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নেতাদের অভিযোগ, প্রশাসন একদিকে প্রধান ফটকে নিরাপত্তা জোরদার করেছে, অন্যদিকে ছাত্রদলের অছাত্র ও বহিরাগতদের প্রবেশের সুবিধার্থে বাকি গেটগুলো খুলে রেখেছে।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পালটাপালটি শোডাউন : নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার জবি ক্যাম্পাসে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে ছাত্রদল। একই সময়ে জকসু নেতারাও শোডাউন করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। গতকাল সকালে দেখা যায়, ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন। একই সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন গ্রুপকে আলাদাভাবে ক্যাম্পাসে শোডাউন দিতে দেখা যায়। দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি উল্লেখ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের স্থান ত্যাগের অনুরোধ জানান। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে দুপুর ২টায় ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি বন্ধ রাখার দাবি জানায় ছাত্রদল। গতকাল সকাল ১১টায় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, এজিএস মাসুদ রানা ও জবি শিবির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিলসহ জকসু নেতারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ক্যাম্পাসে অছাত্র ও বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাসহ ৯ দাবিতে তারা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। দাবি মেনে নিতে তিন দিনের আলটিমেটামও দেন তারা। এরপর কোষাধ্যক্ষের কাছে জকসুর পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রেস ব্রিফিং শেষে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন জকসু ও শিবির নেতারা। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতসহ ৫ দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

থমথমে পরিস্থিতি ববিতে, আতঙ্ক : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে বুধবার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘর্ষের পর রাতেও দুই ছাত্র সংগঠন পৃথক মহড়া, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মহড়া দেন। এ সময় তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ছাত্রশিবিরের ‘অপরাজনীতির’ প্রতিবাদ জানান। এর কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও পাল্টা মহড়া দেন। তারা গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। দুপক্ষের টানা অবস্থান ও শক্তি প্রদর্শনের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দেয়।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, সংঘর্ষের পরও ক্যাম্পাসে দুই সংগঠনের মহড়ার কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে রাতের সময় পরিস্থিতি নিয়ে অনেকেই আতঙ্কিত ছিলেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে বলা হয়েছে।

বিএম কলেজে ছাত্রদল-শিবির হাতাহাতি : বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিবির নেতাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার কলেজের মুসলিম হল ও ডিগ্রি হলে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছিল। ওই সময় কয়েকজনকে মারধর করে হল ও ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে কলেজ প্রশাসনকে অবহিত করতে গতকাল ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি মো. নাহিদ আল হাসানসহ নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। সভাপতি নাহিদ আল হাসান বলেন, ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে তাদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়ালিদ বলেন, ধাক্কা বা মারধরের অভিযোগ সত্য নয়। বুধবার ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে ছাত্রদলের নামে নানা মিথ্যা অভিযোগ করছিল। এ সময় কলেজ সভাপতি জুবায়ের প্রতিবাদ জানান।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

পদ্মা নদী থেকে বিএনপি নেতাদের বালু উত্তোলন ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া

ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া

ডেঙ্গুবাহক এডিস শনাক্ত করবে ঢাবির ‘স্মার্ট ফাঁদ’

ডেঙ্গুবাহক এডিস শনাক্ত করবে ঢাবির ‘স্মার্ট ফাঁদ’

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুরোগী বৃদ্ধি ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন

ফার্মেসিতে মিলছে না ডিএনএস স্যালাইন

চট্টগ্রামে পরিবহণ ভাড়া দ্বিগুণ চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে

চালসহ নিত্যপণ্যের খরচ বেড়েছে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম