চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ফল
১৯ বছর আগের রেকর্ডে ফিরে গেল পাশের হার
Advertisement
এম এ কাউসার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। পাশ করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। বাকি ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। এবারের পাশের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১৯ বছর আগে এই বোর্ডে পাশের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ওই হিসাবে এবার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বোর্ডসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবার অতীতের মতো শিক্ষার্থীদের জোর করে পাশ করানোর জন্য পূর্বনির্দেশনা ছিল না। এ কারণে পরীক্ষার্থীরা খাতায় যা লিখেছে, সেই অনুযায়ী খাতা মূল্যায়ন করেছেন পরীক্ষকরা। অধিকাংশই ইংরেজি ও গণিতে ফেল করেছে।
সোমবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এসএসসির ফল ঘোষণা করেন। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর পাশের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ। এই হিসাবে পাশের হার এবার ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন, যা গত বছর ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় কমেছে ২ হাজার ১৪৫ জন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও এবার অবনতি দেখা গেছে। শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার ২১টি, যা গত বছর ছিল ৩৩টি। এবার ইংরেজিতে ৩৫ হাজার ৮৬৬ জন ও গণিতে ২৫ হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এবার আট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ ফেল করেছে।
১৯ বছরের মধ্যে পাশের হার সর্বনিম্ন : বোর্ডের গত ১৯ বছরের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাশের হার ৬৯ শতাংশের বেশি ছিল। ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ৯১ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী এসএসসি পাশ করেছিল। এর আগে ২০০৭ সালে পাশের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
২০০৮ সালে পাশের হার ছিল ৭২ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০০৯ সালে ছিল ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। এছাড়া ২০১০ সালে ৭২ দশমিক ৩১ শতাংশ, ২০১১ সালে ৭৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ২০১২ সালে ৭৯ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৮৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৯১ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে ছিল ৮২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এছাড়া ২০১৬ সালে ৯০ দশমিক ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছিল। ২০১৭ সালে ৮৪ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯১ দশমিক ১৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছিল।
শতভাগ পাশ করেছে ২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : এবার শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সুনাম অর্জন করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নাম নেই। শতভাগ পাশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাশ করেছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলভার বেলস গার্লস হাইস্কুল, হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রামগড় পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, স্ট্যান্ডার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), বকখালী হাইস্কুল, নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টেকনো-সিডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, রামু ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল, গানার্স ইংলিশ স্কুল, ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, চকরিয়া ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এবং লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সব শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। অন্যদিকে শতভাগ ফেল করেছে আট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। ফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কেন বেশি খারাপ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
