Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

অক্ষুণ্ন রাখে মাটির উর্বরতা

রাসায়নিক সার সংকটে জৈব সার যেন আশীর্বাদ

ফলন ভালো হওয়ায় এর ব্র্যান্ড নাম ‘সোনার দানা’ * রাসায়নিকের চেয়ে এর মূল্য এক-তৃতীয়াংশ

Advertisement

Icon

আহাদ আলী মোল্লা, চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

একদিকে রাসায়নিক সারের তীব্র সংকট, অন্যদিকে বাজারে আকাশছোঁয়া দাম। রাসায়নিকের এই চড়া বাজারে বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনে জমিতে ব্যবহার করছেন কৃষক। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ লাগামহীনভাবে বাড়ছে, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা শক্তি। তাই মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। এতে রাসায়নিক সারের ওপর যেমন চাপ কমবে, তেমনি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, রাসায়নিক সারের এই চরম সংকটের সময়ে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। চিনিকলে আখ মাড়াইয়ের সময় সৃষ্ট বর্জ্য (প্রেসমাড) দিয়ে পরিবেশবান্ধব ও উন্নত মানের জৈব সার উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। গুণগত মান ভালো এবং বাজারে প্রচলিত অন্য সারের তুলনায় দাম কম হওয়ায় ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কেরুর এই জৈব সার। রাসায়নিক সারের খরচ বাঁচিয়ে টেকসই ও লাভজনক কৃষির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, চিনি উৎপাদনের পর যে আখ মাড়াইয়ের উচ্ছিষ্ট বা প্রেসমাড তৈরি হয়, তা একসময় পরিবেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ ছিল। তবে সেই বর্জ্যকেই এখন গবেষণার মাধ্যমে রূপান্তর করা হচ্ছে মূল্যবান জৈব সারে, যার ব্র্যান্ড নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোনার দানা’। সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত ও প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ায় এই সার মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং অণুজীবের কার্যকারিতা সচল রাখে। দাম কম হওয়ায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সরকারিভাবে উৎপাদিত এই জৈব সার। গুণগত মানে অনন্য হওয়ায় কেরুর জৈব সার খুব দ্রুতই অর্জন করে নিয়েছে কৃষকের আস্থা। এই জৈব সার ব্যবহারে বেড়েছে ফসল উৎপাদন ও ফলন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আশাদুল হক বলেন, বাজারে ইউরিয়া, টিএসপি বা ডিএপি সারের জন্য যখন ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে, তখন কেরুর জৈব সার তাদের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক বস্তা রাসায়নিক সার কিনতে গেলে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অথচ, কেরুর জৈব সারের দাম ৯০০ টাকা বস্তা। বিঘাপ্রতি এই সার দুই বস্তা দিলেই যথেষ্ট। জমিতে এই সার ব্যবহারের ফলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। ফলে সংকটের এই সময়েও চাষাবাদের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বি হাসান বলেন, আমাদের জৈব সার ইতোমধ্যে কৃষকের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। মিল গেটে এক কেজির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২৩ টাকায় আর ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। এ বছর ৪ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর ৫ হাজার টন উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলমান রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, মাটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে রাসায়নিকের পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে রাসায়নিক সারের ওপর যেমন চাপ কমবে, তেমনি রক্ষা পাবে মাটির গুণাগুণ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আশুলিয়ায় কর্মজীবী নারী হোস্টেল জায়গা গিলে খাচ্ছে প্রভাবশালীরা

জায়গা গিলে খাচ্ছে প্রভাবশালীরা

অক্ষুণ্ন রাখে মাটির উর্বরতা রাসায়নিক সার সংকটে জৈব সার যেন আশীর্বাদ

রাসায়নিক সার সংকটে জৈব সার যেন আশীর্বাদ

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের দাম পাইকারিতে কমলেও খুচরায় প্রভাব নেই

পাইকারিতে কমলেও খুচরায় প্রভাব নেই

দৌলতপুরে ভাইয়ের হাঁসুয়ার কোপে ভাই খুন

দৌলতপুরে ভাইয়ের হাঁসুয়ার কোপে ভাই খুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম