চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের দাম
পাইকারিতে কমলেও খুচরায় প্রভাব নেই
৮০ টাকার কমে মিলছে না সবজি
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের দাম পাইকারি বাজারে কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজারে মনপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে কোনো প্রভাব নেই। খুচরা বাজারে আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নগরীতে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকার বেশি দরে। আবার চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে ভোজ্যতেলের দাম আরও বেশি। সরকার নির্ধারিত দাম ২০৪ টাকা হলেও এ দামে কোথাও ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে না। নগরীর অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না পর্যাপ্ত বোতলজাত সয়াবিন তেল। চাহিদা মতো তেল না দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন বিক্রেতারা। মুদি দোকানিদের অনেকেই বলছেন, অর্ডার দিয়েও ভোজ্যতেল পেতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে বেশির ভাগ সবজির দামও। পাশাপাশি মুরগির দামও বাড়তি।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমেছে। খাতুনগঞ্জে মনপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে। শুক্রবার প্রতি মন সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৭ হাজার ৩৭০ টাকায়। এ দাম এক সপ্তাহ আগে ছিল ৭ হাজার ৪০০ টাকা। পাম অয়েলের মন বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার ৫২০ টাকায়। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতদিন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন। সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ১৫ হাজার ৬১ টন। এদিকে, বেড়েছে প্যাকেটজাত আটার দামও। বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগেও এসব আটা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। খোলা আটা ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো। অর্থাৎ ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা। একইভাবে বেড়েছে ময়দার দামও। বর্তমানে খোলা ময়দা প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা কোম্পানিভেদে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেল আড়তদার কামরুল হুদা জানান, ‘পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমলে দেশে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।’ এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বেড়েছে চালের দাম। প্রতি কেজি চালের দামে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চাক্তাই চালপট্টিতে পাইকারি বাজারে মোটা সিদ্ধ চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়। একইভাবে প্রতি বস্তায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়ে মানভেদে মিনিকেট আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। দিনাজপুরী পাইজাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা, যা আগে ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকার কাছাকাছি। কাটারিভোগ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ টাকার বেশি দামে। চট্টগ্রামে সবজির দাম বেড়েছে। ৮০ টাকার কমে মিলছে না কোনো সবজিই। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। সোনালি কক কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩১০ টাকা এবং সোনালি ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৬০, ব্রয়লার ১০ টাকা বেড়ে ১৮০ এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
