Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ইয়াবা পরিবহণে প্রধান বাহন কক্সবাজার-ঢাকামুখী ট্রেন

লোকালের চেয়ে বিরতিহীন ট্রেনে ইয়াবা পাচার বেশি * ঢাকাগামী ট্রেনেই সবচেয়ে বেশি ইয়াবা পাচার * বিশেষ টিম, স্টেশনে ড্রাগ স্ক্যানার স্থাপন ও বিরতি বাড়ানোর পদক্ষেপ না নিলে মাদক পাচার রোধ অসম্ভব-রামেশ্বর দাশ

Icon

আবেদ আমিরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়াবা পরিবহণে প্রধান বাহন কক্সবাজার-ঢাকামুখী ট্রেন

Advertisement

ইয়াবাসহ মাদক পরিবহণের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে ট্রেন। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার-ঢাকা ট্রেনই নিরাপদ বাহন হিসাবে ব্যবহার করছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে এ বাহনকে মাদক ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে প্রধান বাহনে পরিণত করেছে। কোনো বাধা ছাড়াই রেলপথে ইয়াবা পাচার করছে ব্যবসায়ীরা। ঢাকাগামী ট্রেনের কারণে ইয়াবা সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (চট্টগ্রাম) সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাশ জানান, ট্রেনভিত্তিক মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম, কক্সবাজার রেলস্টেশনে ড্রাগ স্ক্যানার মেশিন স্থাপন ও কয়েকটি রেলস্টেশনে বিরতির সময় বাড়ানোর তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। এসব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ট্রেনে ইয়াবাসহ মাদক পাচার রোধ করা সম্ভব নয়। 

বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, চলন্ত ট্রেনে অভিযানের জন্য আলাদা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়নি। হাইওয়ে পুলিশ বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা থানা পুলিশসহ অন্য কোনো সংস্থা সময় ও সীমানার সীমাবদ্ধতার কারণে ট্রেনে অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। এ রুটে লোকাল ও বিরতিহীন দুধরনের ট্রেন চলাচল করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, লোকাল ট্রেনের চেয়ে বিরতিহীন ট্রেনে কক্সবাজার থেকে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা পাচার হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চালুর পর বর্তমানে চারটি ট্রেন চলাচল করে। কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চালু হওয়ার আগে পুলিশের হাতে মহাসড়কপথে পাচারের সময় প্রচুর পরিমাণ ইয়াবার চালান আটক হতো। কিন্তু ট্রেন চালুর পর থেকে সড়কপথে ইয়াবা পাচার কমে গেছে। 

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ট্রেন মূলত আন্তঃজেলা হিসাবে চলাচল করে। কিন্তু থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের প্রতিটি ইউনিটের নির্দিষ্ট জোন বা সীমারেখা রয়েছে। এর কোনো একটি বাহিনী ট্রেনে অভিযান শুরু করলে তা সম্পন্ন করতে করতে ততক্ষণে ট্রেন এক জেলার সীমানা পার হয়ে অন্য জেলায় যায়। কিন্তু প্রতিটি বাহনীর সদস্যরা ইচ্ছে করলেই নির্দিষ্ট সীমারেখার বাইরে যেতে পারেন না। লোকাল ট্রেনগুলো কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ৫-৬টি স্টেশনে মাত্র ২-৫ মিনিট করে বিরতি দেয়। আর ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেন একমাত্র চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ১৫ মিনিট বিরতি দেয়। সে কারণে ইয়াবা পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও বিশাল ট্রেনে সীমিত এ সময়ে তল্লাশি করা সম্ভব নয়।

সূত্র জানায়, কক্সবাজার-ঢাকাগামী ট্রেনে অধিকাংশ ইয়াবা ব্যবসায়ী কক্সবাজার প্রধান রেলস্টেশন থেকেই ইয়াবাসহ ট্রেনে উঠে। ঢাকাগামী ট্রেনেই সবচেয়ে বেশি ইয়াবা পাচার হয়। আর চট্টগ্রামগামী ট্রেনে কক্সবাজার প্রধান রেলস্টেশন ছাড়া কাছাকাছি কয়েকটি স্টেশন থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে ট্রেনে উঠে। এরপর তারা নির্বিঘ্নে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে যায়। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে সড়কপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার হচ্ছে ইয়াবা। দেশের উত্তরাঞ্চলে আগে ইয়াবা সহজলভ্য না হলেও গত আড়াই বছর ধরে সেসব জেলায় ইয়াবা সহজলভ্য হয়ে ওঠেছে। ফলে দেশের সর্বত্র এক প্রকার কোনো বাধা ছাড়াই ইয়াবার স্বর্গরাজ্য তৈরি হয়েছে। আগে চট্টগ্রামের বাইরে বড় ধরনের ইয়াবার চালান ধরা না পড়লেও এখন ঢাকা-সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবার বড় চালান ধরা পড়ছে।


Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কুমিল্লায় সোনালি আঁশের শিল্পে কালো মেঘ বন্ধ ৪৪ কারখানা ধুঁকছে ছয়টি

বন্ধ ৪৪ কারখানা ধুঁকছে ছয়টি

৫৬ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন প্রফেসর এনামুল

৫৬ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন প্রফেসর এনামুল

স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি কাজে যোগ দিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা

কাজে যোগ দিয়েছেন পোশাক শ্রমিকরা

চাঁদপুর জেলা পরিষদ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে ২৮ কোটি টাকার এফডিআর

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে ২৮ কোটি টাকার এফডিআর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম