হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তোপের মুখে জামায়াত এমপি
Advertisement
মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ-সদস্য (এমপি) ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খান। বুধবার দুপুরে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে মেহেরপুর ওজোপাডিকো কার্যালয়ে গিয়েও স্লোগানের মুখে পড়েন তিনি। দুই দফা উত্তেজনায় হাসপাতাল ও ওজোপাডিকো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে, রোববার জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার দাবি ওঠে। সভায় হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে কয়েকজন অভিযোগ করেন। এরপর বুধবার হাসপাতাল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে এমপির সঙ্গে কয়েকজন যুবকের বিরোধ ও উত্তেজনার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে হাসপাতালে যান এমপি তাজউদ্দিন। পুরাতন ভবন পরিদর্শনের পর নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ল্যাব পরিদর্শনে যান। সেখানে কয়েকজন যুবককে কাজ করতে দেখে তাদের পরিচয় জানতে চান। তারা অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন বলে জানান। রবি নামের এক যুবক একটি স্বাক্ষরবিহীন পরিচয়পত্র দেখান বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরিচয়পত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়।
এরপর দ্বিতীয় তলায় থাকা লোকজনের সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উত্তেজনা তৈরি হয় বলে এমপির সঙ্গে থাকা নেতারা দাবি করেন। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে তৃতীয় তলায় গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে এমপিকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম। তার দাবি, হাসপাতাল প্রশাসনের নিয়োগ করা লোকজনকে সংসদ-সদস্য ‘দালাল’ বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ তার ওপর চড়াও হয়।
ওজোপাডিকোতেও স্লোগান : হাসপাতালের পর ওজোপাডিকো কার্যালয়ে যান এমপি তাজউদ্দিন। নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে কথা বলার সময় প্রধান ফটকের সামনে একদল যুবক জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশের সহযোগিতায় এমপি কার্যালয় এলাকা থেকে বের হয়ে যান। এ সময় সেখানে মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সংসদ-সদস্যকে ঘিরে উত্তেজনার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েক দিন আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার দাবি ওঠার পর পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ফজলুর রহমান এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।
