বিএনপির দ্বন্দ্বের জের
ঈশ্বরদীতে প্রকাশ্যে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে বাপ্পির মহড়া
Advertisement
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনার ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে চায়নিজ রাইফেল হাতে সোমবার বিকালে শহরের প্রধান সড়কে মহড়া দিতে দেখা গেছে। পরে রেলগেট এলাকায় পিন্টু সমর্থকদের ধাওয়ায় বাপ্পি পাশে অবস্থিত থানায় আশ্রয় নেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে জানান, বাপ্পি আগ্নেয়াস্ত্রটি জমা দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত।
ইতোপূর্বে ঈশ্বরদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ঈশ্বরদী বিএনপির রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় একটি অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
ঈশ্বরদীতে বিগত সংসদ নির্বাচন থেকে বিএনপির দুটি গ্রুপ প্রকাশ্যে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আছে। এদের একটি পক্ষ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী এবং অপরপক্ষ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারী। বাপ্পি ফেসবুক লাইভে এসে পিন্টুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিভিন্ন কথা বলেন। তাদের চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করে শক্ত অবস্থান ঘোষণা করেন। সেই সূত্র ধরে সোমবার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রেলগেট এলাকায় মহড়া দেওয়ার সময় পিন্টু সমর্থকরা ধাওয়া করলে বাপ্পি পাশে অবস্থিত থানায় আশ্রয় নেন।
ঈশ্বরদীর সাবেক ছাত্রদল ও বিএনপি নেতা বাপ্পি এখনো গ্রেফতার হননি। বিএনপির দুই গ্রুপের সশস্ত্র মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় প্রকাশ্যে শটগান হাতে তার মহড়ার ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি বাপ্পি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) উপস্থিত হয়ে ঈশ্বরদীর স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এর প্রতিবাদে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশ পালটা সংবাদ সম্মেলন করে বাপ্পির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী জড়ো করার অভিযোগ তোলে। পৌর এলাকায় তার প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে এখনো চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
