কুবিতে মারামারি : দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীদের বিষয়ে নীরব প্রশাসন
Advertisement
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের দেওয়ালে ‘JCD’ লেখাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার মীমাংসা করতে গিয়ে প্রভোস্টের উপস্থিতিতেই আবারও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও মারামারিতে জড়িত ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম হলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, হল প্রশাসন ও কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন-অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীর। আর অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীরা হলেন-ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হোসাইন ও শনব দেবনাথ এবং মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাদেক সাকের। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের ঘটনার সমাধানের চেষ্টা করছিল হল প্রশাসন। একপর্যায়ে সাংবাদিকসহ উপস্থিত অন্যদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। এ সময় বের হওয়ার পথে বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর ধস্তাধস্তি ও মারামারি শুরু হয়।
ভিডিও ফুটেজে শনব দেবনাথকে সিগারেট মুখে নিয়ে ইলিয়াস শুভকে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় সাদেক সাকের শুভকে গলা জড়িয়ে ধরে রাখেন। একই সময়ে মারুফ হোসাইনকে শুভর ওপর ঘুসি মারতে দেখা যায়। পরে প্রত্যক্ষদর্শীরা মারুফকে সরিয়ে নিলে তিনি হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকজন তাদের সরিয়ে দেন। পরে ভিডিও ফুটেজে মারুফের মুখে রক্ত দেখা যায়।
এ ঘটনায় ইলিয়াস ইসলাম শুভ ও হুমায়ূন কবীরকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদল কর্মী মারুফ ও শনব দেবনাথ এবং সাদেক সাকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
এদিকে হল থেকে বহিষ্কারের পর ইলিয়াস ও হুমায়ূনের বিছানাপত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শনব দেবনাথ, সাদেক সাকের ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে পূর্বে বহিষ্কৃত রাফসান সামির বিরুদ্ধে। হল প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন ইলিয়াস ও হুমায়ূনকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে শহরের একটি মেসে দিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য হলের হাউজ টিউটর মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. হারুন বলেন, ‘প্রথম ঘটনার সুন্দর সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। সমাধান হয়নি। দ্বিতীয় ঘটনাটি যেহেতু আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে, তাই আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।’ তবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের বিছানাপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম বাইরে ফেলে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
