সরকারি কারখানায় প্রথম রুফটপ সোলার
সাশ্রয়ের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তার শিল্প প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেডে এক মেগাওয়াট (এসি) ক্ষমতাসম্পন্ন সর্বাধুনিক রুফটপ সোলার প্লান্টের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়েছে। খুলনার সরকারি কারখানা বা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতার রুফটপ সোলার ব্যবস্থাপনা, যেখানে নিজেদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল কম দিতে হচ্ছে কেবল শিল্পকে।
খুলনার শিরোমণিতে অবস্থিত এই কারখানার ভবনের ছাদের ওপর ৬৮ হাজার স্কয়ার ফিটের ওপর রুফটপ সোলার স্থাপন করা হয়েছে। সাতটি সেডের ১৯৯০টি পিভি মডিউল (প্রতিটি ৬২০ ওয়াট) বসিয়ে বিশেষ এই সোলার প্লান্টটি প্রতিদিন বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। চীন থেকে আমদানি করা সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মালামাল দিয়ে নির্মিত প্লান্টটির প্রাক্কলিত ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৭১৫ টাকা। এই প্যানেলগুলোর স্থায়িত্ব ধরা হয়েছে অন্তত ২০ থেকে ৩০ বছর। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পরবর্তী সাড়ে ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই সোলার প্লান্ট নির্মাণের পুরো খরচ উঠে আসবে। জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সঙ্গে নেট মিটারিং চুক্তির আওতায় গত ২৯ জুলাই থেকে প্লান্টটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায়। বর্তমানে এই প্লান্ট থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ কিলোওয়াট এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সর্বোচ্চ ১.১ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। কারখানার ৯০০ কিলোওয়াটের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ওজোপাডিকোর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত ৪০ দিনে প্রায় ৩৫ হাজার ইউনিট উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সোলার প্লান্টের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাকেশির এই ঐতিহাসিক সাফল্য দেশের অন্যান্য শিল্পকারখানাকে উদ্বুদ্ধ করবে। খুব শিগগিরই বিটিসিএল এবং টেলিটকসহ দেশের যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানে খালি জমি বা ছাদ পড়ে রয়েছে, সেগুলোতেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।’ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সোলার প্লান্টের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে ট্যাক্স অনেক কমানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিন এনার্জি খাতকে জনপ্রিয় করতে সরকার মাত্র ১ শতাংশ হারে ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’ বাকেশির সাফল্য পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে এখানে ২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার সোলার প্লান্ট করা হবে বলেও তিনি জানান।

