Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ অভিযুক্তদের * চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

Advertisement

Icon

আবির হোসেন, ইবি

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে বয়কট, মারধর এবং ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তারিফ জামান রাজ। এ ঘটনায় শনিবার প্রক্টর ও বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে সহপাঠী আল-নাজিব মাহি, কাইয়ুম মোস্তফা, আব্দুল কাইয়ুম, মুজাহিদুল ইসলাম মিম, আবিদ বিন ইকরা, সায়েম হাফিজ সিয়াম, নবী হোসেন শুভ ও আব্দুল ফাত্তাহ আকিবকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগে রাজ বলেন, ক্লাস শুরুর পর সিআর হিসাবে তৎকালীন বিভাগীয় সভাপতির সহায়তায় সিনিয়রদের ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে ক্লাসে আসতে বাধা দেন তিনি। এরপর কয়েকজন সিনিয়র ও সহপাঠী তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জাহিদ মৃধাসহ কয়েকজন সিনিয়রের ইন্ধনে অভিযুক্ত ব্যাচমেটরা তাকে বিভাগ ও ব্যাচভিত্তিক বয়কট করে বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপ থেকে বের করে দেন। পরে কোনো নির্বাচন ছাড়াই আল-নাজিব মাহিকে সিআর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজের অভিযোগ, ৯ সেপ্টেম্বর রাতে বয়কট তুলে নিতে মাহিসহ অভিযুক্তরা তার কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। টাকা না দেওয়ায় বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে নির্জন স্থানে তাকে আটকে মারধর করা হয়। মাহি, আব্দুল কাইয়ুম ও কাইয়ুম মোস্তফা তাকে কিল-ঘুসি, লাথি ও চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ। এ সংক্রান্ত দুটি অডিও রেকর্ডও রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আল-নাজিব মাহি বলেন, টাকা দাবির বিষয়টি মিথ্যা। রাজ পরিবার ও মা-বাবা তুলে গালাগাল করায় বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। রাজই প্রথমে গায়ে হাত তোলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ক্লাসের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে রাজকে বয়কট করে ভোটের মাধ্যমে তাকে সিআর নির্বাচিত করেছে।

অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুম বলেন, রাজ তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় কারণ জানতে চাইলে রাজ প্রথমে ধাক্কা দেন। জবাবে তিনি রাজের কলার ধরলে পরিস্থিতি জটিল হয়। কাইয়ুম মোস্তফা মারধরের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতির চাপে একজন রাজের গায়ে হাত তুলেছিল।

অভিযুক্তরা রাজের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও সহপাঠীদের সঙ্গে অসন্তোষজনক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বেশিরভাগই বানোয়াট দাবি করে রাজ বলেন, সিনিয়রদের র‌্যাগিং ও ‘ম্যানার শেখানোতে’ বাধা দেওয়ার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ অনেকে।

অভিযোগের পর বিভাগ জরুরি সভা করে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. জুলফিকার হোসেন, ড. লুৎফর রহমান ও ফকরুল ইসলাম। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মুন্সি মুর্তজা আলী বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। অভিযোগ পাওয়ার পর মিটিং করে তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।’ প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত একই বিভাগের। তাই বিষয়টি বিভাগে সমাধান হওয়া ভালো। সেখানে সমাধান না হলে বিষয়টি দেখব।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চা চাষ পতিত জমি থেকে সবুজ বিপ্লব

পতিত জমি থেকে সবুজ বিপ্লব

ডিজিএফআই পরিচয়ে ৩২ লাখ টাকার মাল লুট ‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম