Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার

অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর ও দক্ষিণ)। দূর থেকে তাকালে বা ওপরে উঠলে চোখে পড়বে ছাদে টিন দিয়ে অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে কয়েকশ দোকান ও গুদামঘর। সিটি করপোরেশনের নকশার বাইরে এসব দোকান ও গোডাউন ভাড়া দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সমিতির নেতারা। একদিকে এসব দোকান থেকে সিটি করপোরেশন যেমন কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না, অন্যদিকে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শঙ্কাও রয়েছে। ছাদ দখল করে অবৈধ বাণিজ্যে নষ্ট হচ্ছে মার্কেটের ব্যবসার পরিবেশ। বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ জানালেও অবৈধ স্থাপনা অপসারণে সিটি করপোরেশন দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতীতে গুলিস্তানকেন্দ্রিক মার্কেটগুলোতে আওয়ামী লীগের এমপি আফজাল হোসেন ও মোজাম্মেল হক মজুর নেতৃত্বাধীন জোট অবৈধ দোকান নির্মাণ ও ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। হাসিনার পতনের পর আফজাল গ্রেফতার হলে এখন একচেটিয়া রাজত্ব ধরে রেখেছেন মজু ও তার সহযোগীরা। বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আন্দোলন প্রতিবাদ করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মার্কেটের অনিয়ম ও অর্থ লোপাট নিয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান যুগান্তরকে বলেন, অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ডিএসসিসির মালিকানাধীন ঢাকা সেন্টার উত্তর ও দক্ষিণের ছাদে গড়ে তোলা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণে ৯৫১টি স্থায়ী ও ২১০ অস্থায়ীসহ মোট ১১৬১টি দোকান। ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তরে ৯৭১টি স্থায়ী ও ২৩৭টি অস্থায়ীসহ মোট ১১০৮টি দোকান রয়েছে। কিন্তু এই মার্কেটে আরও ৩ হাজারের বেশি দোকান রয়েছে, যেগুলো মার্কেট সমিতিতে থাকা সিন্ডিকেট সদস্যরা দখল করে অবৈধ বাণিজ্য করছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতীতে করপোরেশনের বৈধ দোকানের বাইরে আরও ৭০০ অতিরিক্ত দোকান করেছিল আওয়ামী এমপি আফজাল গং। তারা মার্কেটে দুটি টয়লেট কমিয়ে, লিফটের জায়গা ছোট করে, জানালা কমিয়ে এসব দোকান তৈরি করেছিলেন। ফলে আলো-বাতাস চলাচলে স্বল্পতা দেখা দেয় এবং অগ্নিঝুঁকির সৃষ্টি হয়। সে সময় ডিএসসিসির তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকনের নাম করে দোকানপ্রতি ৭-১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দোকান মালিক সমিতি। এভাবে তারা ৬০-৬২ কোটি টাকা নিজেদের পকেটে ভরেছেন। তবে দুই ট্রেড সেন্টারের ওই ৭০০ দোকান মালিকের কাছে ডিএসসিসির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর-দক্ষিণ) মার্কেটের ছাদে অস্থায়ী দোকান-গুদাম নির্মাণ করেন মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনুমোদিত নকশার বাইরে ১৭০টির বেশি দোকান-গুদামঘর নির্মাণে নেতৃত্ব দেন ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর) মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু, সাধারণ সম্পাদক বাসেত মাস্টার, দক্ষিণের সভাপতি মীর আল মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন রানা।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ছাদে অবৈধভাবে নির্মিত এসব স্থাপনার দুটি রুমে নিরাপত্তারক্ষীরা থাকলেও সবগুলোই ভাড়া দেওয়া। এসব দোকানে ব্যবসায়ীরা জুতা, জামা, প্যান্ট, কম্বলসহ দোকানের প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী রেখে ব্যবসা করছেন। ঘরপ্রতি জামানত হিসাবে দিয়েছেন ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা। প্রতিটি দোকান থেকে মাসিক ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলের দেড় দশকে দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন, সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার তাপস ও কিশোরগঞ্জের এমপি আফজাল গং ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল গুলিস্তানকেন্দ্রিক সরকারি মার্কেটগুলোতে। মূলত এই প্রভাবশালীদের সামনে রেখে মাঠের অনিয়ম-দুর্নীতি বাস্তবায়ন করেছিলেন দেলোয়ার হোসেন দেলু, নাজমুল হুদা, মোজাম্মেল হক মজু, হুমায়ুন কবির মোল্লা ও জহিরুল ইসলাম সিন্ডিকেট। তাদের সবাই তখন মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। এর মধ্যে ট্রেড সেন্টারের উত্তরের সভাপতি ছিলেন নাজমুল ও সাধারণ সম্পাদক মজু। আর ট্রেড সেন্টার দক্ষিণের সভাপতি ছিলেন হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাক এমপি আফজাল। আওয়ামী লীগের পতনে আফজাল জেলে গেলেও মার্কেট দখলে রেখে রাজত্ব ধরে রেখেছেন মজু সিন্ডিকেট।

কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মার্কেটের ডিজাইন পরিবর্তন করে ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ছাদে দোকান ও গোডাউন করে ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে মজু সিন্ডিকেট। তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মার্কেটের নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকান বরাদ্দে অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তর এবং বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের সভাপতি মোজাম্মেল হক মজুকে একাধিকবার কল ও এসএমএস করা হলেও তিনি রিসিভ বা ব্যাকও করেননি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ বলেন, সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন ঢাকা সেন্টার উত্তর এবং দক্ষিণের ছাদে টিন দিয়ে দোকান তৈরি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কোনো অবৈধ স্থাপনা আমরা রাখব না। এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করতে করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগকে জানানো হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চা চাষ পতিত জমি থেকে সবুজ বিপ্লব

পতিত জমি থেকে সবুজ বিপ্লব

ডিজিএফআই পরিচয়ে ৩২ লাখ টাকার মাল লুট ‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম