Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ডিজিএফআই পরিচয়ে ৩২ লাখ টাকার মাল লুট

‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

২ বছরেও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ * জামিনে বেরিয়ে বীরদর্পে ঘুরছে দুই আসামি

Advertisement

Icon

শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

চকবাজারের রিংকি বড়ুয়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাসায় লুটপাট ও হামলার আশঙ্কায় এক বিশ্বস্ত ব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছিলেন ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা, ২ হাজার ডলারসহ অন্তত ৩২ লাখ টাকার মালামাল। কিন্তু বাসা থেকে বের হতেই সেই মালামাল ডিজিএফআই পরিচয়ে লুট করে নেয় দুই দুর্বৃত্ত। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তারা যে ডিজিএফআই এর সদস্য নয় তা শনাক্তও করা হয়। পরে পাঠানো হয় জেলহাজতে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুবছর পেরিয়ে গেছে। এরপরও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। রহস্যজনক কারণে থমকে আছে মামলার তদন্তও।

মামলার এক আসামি আবদুস সাত্তার নগরীর চকবাজার সৈয়দ সেন্টারে থাকেন। আরেকজন রুকন উদ্দিন চৌধুরীর বাড়ি বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নে।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চকবাজার থানাধীন কেয়ারি ইলিশিয়াম সেন্টারের বাসিন্দা রিংকি বড়ুয়ার সঙ্গে মেহেদি হাসান খানের পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সুসম্পর্ক ছিল। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে রিংকি বড়ুয়ার বাসায় হামলা ও লুটপাটের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এই অবস্থায় রিংকি বড়ুয়া বাসায় রক্ষিত ৩০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক ৩২ লাখ টাকার মালামাল মেহেদি হাসান খানের হাতে তুলে দেন। ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় সেই মালামাল নিয়ে চকবাজার কেয়ারি ইলিশিয়ামের বাসা থেকে ইপিজেডে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। তারা নিজেদের ডিজিএফআই এর লোক পরিচয় দিয়ে থানায় যাওয়ার কথা বলে মেহেদিকে মালামালভর্তি ব্যাগসহ তুলে নেয়। কয়েকটি সড়ক ঘুরিয়ে সন্ধ্যায় তাকে নামিয়ে দেয়। এ সময় তারা তাকে মারধর করে এবং আয়নাঘরের ভয় দেখায়। মামলা করলে হত্যারও হুমকি দেয়। দুর্বৃত্তরা মালামালভর্তি ব্যাগ এমনকি মেহেদির পকেটে থাকা দুটি ফোনও নিয়ে যায়। এ ঘটনার দুদিন পর ২৫ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় মামলার ৫ দিনের মাথায় ৩০ আগস্ট অভিযান চালিয়ে পুলিশ আবদুস সাত্তার এবং রুকন উদ্দিনকে গ্রেফতার করে।

কোতোয়ালি থানার সাবইন্সপেক্টর মো. মোস্তফা কামাল মামলার ফরোয়ার্ডিংয়ে উল্লেখ করেন, পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে গ্রেফতার ব্যক্তিদ্বয় ডিজিএফআই এর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে। তবে মামলার দুবছর পার হয়ে গেলেও পুলিশ সেই মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। আবার এরই মধ্যে আসামিরাও আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে ঘুরছে বীরদর্পে। বর্তমানে মামলাটি কোতোয়ালি থানার এসআই কাজী মনিরুল করিম তদন্ত করছেন। এসআই কাজী মনিরুল করিম যুগান্তরকে বলেন, ‘বাদীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। যার মালামাল লুট হয়েছে সেই মহিলাকে পাওয়া যাচ্ছে না। বাদী যদি সাক্ষী আনতে পারেন তবে তদন্তের অগ্রগতি হবে।’

এ মামলা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মহানগর পিপি অ্যাডবোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, ‘ডিজিএফআই পরিচয়ে মালামাল লুট বা ছিনতাইয়ের ঘটনা স্পর্শকাতর। মামলার দুবছর পর বাদীর ‘অসহযোগিতার’ অভিযোগে তদন্ত থেমে যাওয়ার সুযোগ নেই। আসামি গ্রেফতার হওয়ার পরও মালামাল উদ্ধার করতে না পারা তদন্তের দুর্বলতা। এখন বাদী যদি আসামির সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতা করে থাকেন, বা পুলিশও যদি সেই সমঝোতার অংশ হয়ে যায় তবে তা দুঃখজনক। তাছাড়া যদি ঘটনা মিথ্যা হয়ে থাকে সেই মিথ্যা মামলার জন্য বাদীর বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

অবৈধ ‘ছাদ বাণিজ্যে’ পকেটে কোটি টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চা চাষ পতিত জমি থেকে সবুজ বিপ্লব

পতিত জমি থেকে সবুজ বিপ্লব

ডিজিএফআই পরিচয়ে ৩২ লাখ টাকার মাল লুট ‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

‘গোপন সমঝোতায়’ থমকে আছে তদন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় মারধর ও চাঁদা দাবি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম