কুয়াকাটায় সংবাদ সম্মেলন
ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন ছাত্রদল নেতাকে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ফারুক। তিনি মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। মঙ্গলবার কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। ফারুক জানান, ‘আব্বা’ বলে পা ধরে কাকুতি-মিনতি করেও নির্যাতন থেকে তারা রেহাই দেয়নি।
এ সময় মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি মেহেদী হাসানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ফারুকের অভিযোগ, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম, রাশেদসহ ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ আনেন।
ফারুক বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল। পরে মোটরসাইকেলে আমাকে কলাপাড়ায় নেওয়া হয়। সেখানে ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন দফায় দফায় মারধর করে। রাত ১টা পর্যন্ত আমাকে নির্যাতন করা হয়।
তার দাবি, তাকে তুলে নেওয়ার সময়ের পুরো ঘটনা সিসি ক্যামেরায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের পা ধরে আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ, এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে ছাড়েনি।’
পরে তার দুই বন্ধু মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর শনিবার আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয়।
ফারুক জানান, ঘটনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ অবস্থায় বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
ফারুখ বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়া অপরাধ হতে পারে না। বরং ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা গুরুতর অপরাধ। তিনি অভিযুক্ত মাসুদ রানা, রাশেদ, ফাহিমসহ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম ও যুগ্ম-আহ্বায়ক মাসুদ রানা। ফাহিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মাসুদ রানাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ওসি শামীম হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
