পশ্চিম রেলের সদর দপ্তর
বকেয়া নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে বচসা, হাতাহাতি
প্রভাবশালী তিন ঠিকাদার আগে বিল নিতে চাপ দিচ্ছেন কন্ট্রোলার অব স্টোরস নাহিদ হোসেনকে
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পশ্চিম রেলের সদর দপ্তরে কন্ট্রোলার অব স্টোরসের (সিওএস) কার্যালয়ে ঠিকাদাররা বকেয়া বিল পেতে ঠিকাদারদের দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় তিন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তাদের বিল আগে দেওয়ার জন্য অন্য ঠিকাদারদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, সিওএস দপ্তর রেলের ইঞ্জিন, কোচ বা লাইনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনাকাটা, গুদামজাতকরণ এবং তা বিভিন্ন বিভাগে সঠিকভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করে থাকে। মালামাল কেনার পর এই দপ্তর থেকেই ঠিকাদারদের বিল দেওয়া হয়। তিন দিন আগে এই দপ্তরে সাড়ে চার কোটি টাকা এসেছে ঠিকাদারদের বিল দেওয়ার জন্য। যার কাজ যত আগে, তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিল পেয়ে থাকেন। কিন্তু স্থানীয় তিন ঠিকাদার আগে বিল চাওয়ায় এ নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার উদ্ভব হয়। সূত্র জানিয়েছে, খবর পেয়ে সোমবার বিকালে ২০-২৫ জন ঠিকাদার সিওএস দপ্তরে ভিড় জমান। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিল ছাড়ের জন্য কন্ট্রোলার অব স্টোরস নাহিদ হোসেনকে অনুরোধ করতে থাকেন। ওই সময় সেখানে যান অফিসসংলগ্ন শিরোইল কলোনি এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুর হোসেন ভুটান, মাহফুজ আলম আপেল ও শরিফুল ইসলাম। তারা আগে তাদের বিলগুলো ছাড় করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ সময় তারা একটি তালিকা করে সে অনুযায়ীই বিল দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। তবে রেল কর্মকর্তা নাহিদ হোসেন বলেন, বরাদ্দ কম। তাই ছোট বিলগুলো তিনি আগে দিতে চান। কিন্তু তা মানতে চাচ্ছিলেন না ওই তিন ঠিকাদার। তারা এ সময় ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগে তাদের বিল দিতে হবে।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, সোমবার বিকালের ঘটনা। তবে তিনি এই থানায় যোগ দিয়েছেন ওইদিন সন্ধ্যায়। কেউ অভিযোগও করেননি। অভিযোগ পেলে তিনি তদন্ত করে দেখবেন। জানা গেছে, এই তিন ঠিকাদারের বাড়ি পশ্চিম রেলের সদর দপ্তরের পাশেই। তাই তারা সব সময়ই সদর দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করেন। ভুটান ওই এলাকার সাবেক কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টিটোর ভাগিনা। শিরোইল কলোনির ৪ নম্বর গলিতে তার বাড়ি। আর আপেলের বাড়ি ১ নম্বর গলিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে রেলে ঠিকাদারি শুরু করেন। ভুটান বিএনপির কর্মী বলে নিজের পরিচয় দেন। আর শরিফুল ও আপেল যুবদল করলেও কোনো পদ নেই। ভুটান আওয়ামী লীগের আমল থেকেই রেলে ঠিকাদারি করেন। এখন পশ্চিমাঞ্চলের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের কার্যালয়ের ঠিকাদারি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। কর্মকর্তাদের ওপর তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
আগে বিল পেতে অন্য ঠিকাদারদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজ আলম আপেল বলেন, ‘বকেয়া বিলের চার ভাগের মধ্যে মাত্র এক ভাগ এসেছে। অনেকেরই বিল আটকে আছে। আমরা আগে বিল চাইনি। স্থানীয় হওয়ার কারণে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ সঠিক নয়। সব ঠিকাদার একসঙ্গে বিল চাইছিলেন, এ কারণে দু-একটি কথা হয়েছে। এর বেশি কিছু না।’ এ ব্যাপারে পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহম্মেদ হোসেন মাসুম বলেন, ‘ঠিকাদারদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, এটা শুনেছি।’
পশ্চিম রেলের কন্ট্রোলার অব স্টোরস নাহিদ হোসেন বলেন, ‘বরাদ্দ এলে আগে বিল পাওয়ার জন্য ঠিকাদাররা তো চেষ্টা করেনই। এটা নিয়েই একটু ঝামেলা হয়েছিল। ঘটনা বেশি বড় না।’ আগে বিল দেওয়ার জন্য স্থানীয় তিন ঠিকাদারের চাপ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাদের বিল আগে দেওয়ার জন্য বলছিলেন, কিন্তু কোনো তালিকা এনেছিল কি না মনে নেই।’
