Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

শাহজালাল বিমানবন্দর নিয়ে আজ জরুরি বৈঠক

নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট থার্ড টার্মিনালে

Icon

সাইফ আহমাদ

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হওয়ার কথা। অথচ শেষ মুহূর্তে এসে ভয়াবহ ডিজিটাল অবকাঠামোগত সংকটে পড়েছে দেশের প্রধান এই প্রবেশদ্বার। টার্মিনালে এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নেই। ত্রুটিপূর্ণ নকশার কারণে কার্যত নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউটের ঝুঁকিতে রয়েছে পুরো টার্মিনাল। নির্ভরযোগ্য মোবাইল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে প্রকল্প নেওয়া হলেও তাতে কোনো সাড়া মেলেনি। রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটকের আহ্বান করা উচ্চপ্রযুক্তির ‘অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম (অ্যাক্টিভ ডাস)’ দরপত্রে অংশ নেয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান। ফলে থমকে গেছে নেটওয়ার্ক স্থাপনের কার্যক্রম। সংকট সমাধানে আজ বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ডাকা হয়েছে জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। নেওয়া হতে পারে জরুরিভিত্তিতে ফাস্ট-ট্র্যাক প্রক্রিয়ায় নেটওয়ার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল নকশায় ইনডোর মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো অপরিহার্য অবকাঠামো বাদ পড়া বড় ধরনের পরিকল্পনাগত ঘাটতি। দ্রুত সমাধান না করলে উদ্বোধনের পর সেবা বিঘ্নেরও আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কারিগরি বা দরপত্রের শর্তে এমন কিছু ছিল কি-না, যা যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরুৎসাহিত করেছে-তা যাচাই না করে শেষ মুহূর্তের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাড়াতে পারে ব্যয় ও ঝুঁকি। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল নির্মাণের সময় যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো মৌলিক ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। মূল নকশায় এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়া পরিকল্পনাগত ঘাটতিরই ইঙ্গিত দেয়। উদ্বোধনের এত কাছে এসে নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান এবং কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ না নেওয়া উদ্বেগের বিষয়। কেন প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ দেখায়নি, প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক শর্ত বাস্তবসম্মত কি-না, তা দ্রুত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বুধবার যুগান্তরকে বলেন, কিছু টেকনিক্যাল জটিলতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিতে সমস্যার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে। আগামীকালের মিটিংয়ের পর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা যাবে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, থার্ড টার্মিনাল নির্মাণের মূল নকশায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপনের বিষয়টি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় নতুন করে অবকাঠামো বসানোর উদ্যোগ নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বাস্তবায়নে দায়িত্ব দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে। সে লক্ষ্যে জুলাই মাসে উন্নতমানের ইনডোর টেলিকম নেটওয়ার্ক স্থাপনে জন্য দরপত্র আহ্বান করে টেলিটক।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। কিন্তু উচ্চপ্রযুক্তির অ্যাডাস ও মাইক্রো বিটিএস সংক্রান্ত ই-জিপির দরপত্রে নির্ধারিত সময়ে কোনো ঠিকাদারি বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই অংশ নেয়নি।

নথি অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর দরপত্র জমার নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো প্রতিষ্ঠান এতে সাড়া দেয়নি। তাই দরপত্র চূড়ান্তভাবে বাতিল বলে গণ্য হয়েছে। এতে থার্ড টার্মিনাল চালুর সঙ্গে যাত্রীদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেটিই এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে আজ বেলা ১১টায় বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে মন্ত্রী, বেবিচক সদস্য, পরিচালক, বিটিআরসির প্রতিনিধি এবং টেলিটকের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, তৃতীয় টার্মিনালের বিশাল কাচ, স্টিল ও কংক্রিটের কাঠামোর কারণে বাইরের মোবাইল টাওয়ার থেকে আসা সিগন্যাল ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানেই অ্যাডাস ও স্মল সেলভিত্তিক ইনডোর নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় টার্মিনালের বিভিন্ন এলাকায় পূর্ণাঙ্গ মোবাইল কভারেজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। নেটওয়ার্কটি ৪জি এবং ভবিষ্যতে ৫জি প্রযুক্তির উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় আজকের বিশেষ বৈঠকে জরুরিভিত্তিতে ফাস্ট-ট্র্যাক বা বিশেষ কোনো প্রক্রিয়ায় নেটওয়ার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রচলিত দরপত্র প্রক্রিয়ায় কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেটওয়ার্ক চালু করা কঠিন। তাই দ্রুততম সময়ে কাজ বাস্তবায়নে বিকল্প বা বিশেষ প্রক্রিয়া গ্রহণের পথ খোঁজা হবে বৈঠকে।

তৃতীয় টার্মিনালের ইনডোর নেটওয়ার্কের জন্য নেওয়া প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হবে অ্যাকটিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম (অ্যাকটিভ ডিএএস), প্রায় ৭০০টি স্মল সেল এবং ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই ইউনিট। এর মাধ্যমে ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল, ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনালসহ যাত্রী ও অপারেশনাল এলাকার ইনডোর নেটওয়ার্ক কভারেজ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা মূলধনী ব্যয়। এ অর্থে কোর নেটওয়ার্ক, ট্রান্সমিশন, অ্যাকটিভ ডিএএস, স্মল সেল, ওয়াই-ফাইসহ বিভিন্ন টেলিকম অবকাঠামো স্থাপন করা হবে। রাজস্ব খাতে রাখা হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ, পরিবহণ, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে এ অর্থ। দৈহিক ও মূল্যসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় রাখা হয়েছে আরও ২৫ লাখ টাকা।

কিন্তু দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ না নেওয়ায় প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন ধাপই আটকে গেছে। এছাড়া বড় প্রশ্ন উঠেছে সময় নিয়ে। ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর কথা থাকলেও প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে এ বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী চলাচল করেন এবং প্রতিদিন গড়ে ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টার্মিনালে ঢুকেই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীদের যদি নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই প্রকাশ করবে না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শাহজালাল বিমানবন্দর নিয়ে আজ জরুরি বৈঠক নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট থার্ড টার্মিনালে

নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকআউট থার্ড টার্মিনালে

পশ্চিম রেলের সদর দপ্তর বকেয়া নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে বচসা, হাতাহাতি

বকেয়া নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে বচসা, হাতাহাতি

দেশসেরা ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটিই বেসরকারি

দেশসেরা ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটিই বেসরকারি

ড. মোশাররফের ৮১তম জন্মদিন আজ

ড. মোশাররফের ৮১তম জন্মদিন আজ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম