Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

লেনদেন ৬ কোটি টাকা

কমলগঞ্জের টমেটো চারা যাচ্ছে নানা প্রান্তে

Icon

আব্দুর রাজ্জাক রাজা, কমলগঞ্জ

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এখন শুধু টমেটো চাষ নয়, টমেটোর চারা উৎপাদনও হয়ে উঠেছে লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। উপজেলার বিভিন্ন নার্সারিতে উৎপাদিত এসব গ্রাফটিং টমেটোর চারা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। দূরদূরান্তের কৃষকরাও এখন কমলগঞ্জের এসব চারার ওপর নির্ভর করছেন।

জানা যায়, উপজেলার আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে গ্রাফটিং টমেটোর চারার নার্সারি। মৌসুম এলেই এসব নার্সারিতে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। চারা উৎপাদন, গ্রাফটিং, পরিচর্যা, বাছাই ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন উদ্যোক্তা ও শ্রমিকরা। নার্সারি উদ্যোক্তারা জানান, প্রথমে তিতবেগুন ও টমেটোর আলাদা বীজতলা তৈরি করা হয়। তিতবেগুনের চারা উপযুক্ত হতে প্রায় ৩৫ দিন এবং টমেটোর চারা তৈরি হতে প্রায় ২৫ দিন সময় লাগে। এরপর স্বাস্থ্যবান চারা বাছাই করে গ্রাফটিং করা হয়। জোড়ার স্থান বিশেষ পলিথিন দিয়ে বাঁধার পর তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে দুটি অংশ জোড়া লাগে। পরে আরও ১০ থেকে ১২ দিন পরিচর্যার ঘরে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয় গ্রাফটিং চারা।

কৃষকরা বলেন, গ্রাফটিং করা টমেটোর গাছ সাধারণত সহজে ঢলে পড়ে না এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়। ফলে গাছ সবল থাকে এবং ফলনও বেশি পাওয়া যায়। সাধারণ একটি টমেটো গাছে যেখানে ৫ থেকে ১০ কেজি ফলন পাওয়া যায়, সেখানে গ্রাফটিং করা একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত টমেটো পাওয়া সম্ভব। এই চারার সুবিধা হলো ভারি বৃষ্টিতেও গাছ টিকে থাকে। স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেন, গ্রাফটিং টমেটো গাছ পানি সহনীয়। ভারি বৃষ্টির সময় সাধারণ টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গ্রাফটিং করা গাছ তুলনামূলক ভালোভাবে টিকে থাকে। রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম। এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকের মধ্যে এ চারার চাহিদা বাড়ছে। প্রতিটি গ্রাফটিং চারা বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে। এ কাজে যুক্ত শ্রমিকদেরও তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান। একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে ১ হাজার থেকে ১২শ’টি পর্যন্ত চারা জোড়া লাগাতে পারেন।

গ্রাফটিং পদ্ধতি সম্পর্কে স্থানীয় কৃষক এম এ করিম জানান, বনবেগুন হচ্ছে টমেটোর একটি জংলি জাত, গ্রামগঞ্জে এ বেগুনের হরেক নাম। এই বেগুন চারার গোড়ার দিকের অংশের সঙ্গে টমেটোর চারার ওপরের দিকের অংশ জোড়া দিয়ে করা হয় গ্রাফটিং। কৃষকরা আরও বলেন, শুধু মৌলভীবাজার নয়, দেশের আরও ৮ থেকে ১০টি জেলায় চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। অনেক কৃষক মৌসুম শুরুর আগেই কতটি চারা প্রয়োজন তা জানিয়ে অর্ডার দেন। চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো চারা সরবরাহ করতে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, উপজেলায় প্রতি মৌসুমে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব চারা মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদন ও বিক্রি কেন্দ্র করে এক মৌসুমে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার লেনদেন হয়। এটি এখন উপজেলার কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠছে। তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে। এ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৪৮০ জন কৃষক।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ পুলিশের ৯ ইউনিট নিয়ে কুইক রেসপন্স টিম

পুলিশের ৯ ইউনিট নিয়ে কুইক রেসপন্স টিম

লেনদেন ৬ কোটি টাকা কমলগঞ্জের টমেটো চারা যাচ্ছে নানা প্রান্তে

কমলগঞ্জের টমেটো চারা যাচ্ছে নানা প্রান্তে

জামায়াতের চার এমপির লিখিত অভিযোগ শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি চরমে

শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি চরমে

চট্টগ্রাম দক্ষিণে ইউপি নির্বাচন ৮ উপজেলায় প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির ‘সার্চ কমিটি’

৮ উপজেলায় প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির ‘সার্চ কমিটি’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম