চট্টগ্রাম দক্ষিণে ইউপি নির্বাচন
৮ উপজেলায় প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির ‘সার্চ কমিটি’
শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ, জনমত যাচাই এবং সার্বিক প্রস্তুতির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি। এর অংশ হিসাবে দক্ষিণের আট উপজেলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘সার্চ কমিটি’। এই কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া ও সদস্যসচিব লায়ন মো. হেলাল উদ্দিনের স্বাক্ষরে এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও ইস্যু করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী বছরের জানুয়ারী থেকে জুনের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। এজন্য নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক থাকছে না। কিন্তু এরপরও দলগুলো নিজেদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থী দিয়ে তাদের জয়ী করে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।
এদিকে জেলা বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ে কমিটি গঠন করলেও দক্ষিণের বিএনপিদলীয় এমপিদের সঙ্গে জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে বৃহস্পতিবার এমপিরা নিজেরাই সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ করেছেন কর্ণফুলী উপজেলার এজে চৌধুরী কলেজ মাঠে। এর মধ্য দিয়ে জেলা কমিটির সঙ্গে এমপিদের দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেমনি দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মাঠে গড়িয়েছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। এ অবস্থায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়নে জেলার একক কর্তৃত্ব নাও থাকতে পারে বলে শঙ্কা তাদের।
বৃহস্পতিবার পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে পটিয়ার এমপি এনামুল হক এনাম, আনোয়ারা-কর্ণফুলীর এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম ও চন্দনাইশ-সাতকানিয়ার এমপি জসিম উদ্দিন আহমেদ নেতৃত্ব দেন।
জেলা বিএনপির ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ইউপি নির্বাচন উপলক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি, দল সমর্থিত প্রার্থী বাছাই এবং জনমত গঠনে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মকাণ্ড চালু করা জরুরি। চিঠিতে বলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, আনোয়ারা উপজেলায় মাস্টার মোহাম্মদ রফিক, সরোয়ার হোসেন মাসুম, জাগির আহমদ, আমিনুল ইসলাম, দিল মোহাম্মদ মনজু ও এম মনছুর উদ্দিন। কর্ণফুলীতে আলী আব্বাস, এসএম মামুন মিয়া, হাজি মোহাম্মদ ওসমান, মোহাম্মদ ইসমাইল, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন ও সালেহ জহুর।
বাঁশখালীতে শিকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, আমিনুর রহমান চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, কামরুল ইসলাম হোসাইনি, মাস্টার মোহাম্মদ লোকমান ও দেলোয়ার জসিম। সাতকানিয়ায় জামালা হোসেন, মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল আলম, শেফায়েত উল্লাহ ছক্কু ও মোস্তাফিজুর রহমান। লোহাগাড়ায় আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, নাজমুল মোস্তফা আমিন, এসএম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, সালাহউদ্দিন চৌধুরী সোহেল ও ফৌজুল কবির ফজলু।
চন্দনাইশে নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, মোজাম্মেল হক বেলাল, জসিম উদ্দিন, ইখতিয়ার হোসেন চৌধুরী ইফতু ও খন্দকার হেলাল উদ্দিন। বোয়ালখালী উপজেলায় আজিজুল হক চৌধুরী, শওকত আলম চৌধুরী, জাবেদ মেহেদী সুজন ও মোহাম্মদ শাহীনু রহমান শাহীন, পটিয়ায় রেজাউল করিম নেচার, সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু, বদরুল খায়ের চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও শাহাদাত হোসেন সুমন। এছাড়া উত্তর সাতকানিয়ায় রাজীব জাফর চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেনকে সদস্য করে একটি সাংগঠনিক ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু যুগান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজিভী আহমেদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকের নির্দেশনা অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকে জেলা কমিটির ৫৪ সদস্যের মধ্যে ৪০ জনই উপস্থিত ছিলেন। সবার মতামত নিয়েই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো বিতর্ক না হয়।’ সার্চ কমিটি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই সংক্রান্ত কমিটিতে আমাকে রাখা হয়েছে। যদিও আমি ওই বৈঠকে ছিলাম না।’ জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে এমপিদের নেতৃত্বে প্রতিবাদ সমাবেশের কারণে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মাঠে গড়ালো কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমপিরা জনপ্রতিনিধি। জেলা কমিটিকে পাশ কাটানোর বিষয়টা ঠিক নয়।
