Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ

পুলিশের ৯ ইউনিট নিয়ে কুইক রেসপন্স টিম

Icon

সিরাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। মিরপুর রাড্ডা কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিএনপির দলীয় সংরক্ষিত আসনের সংসদ-সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সারা দেশে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। মিষ্টি ছাড়াও একাধিক সংসদ-সদস্য এবং বিতর্কিত নেতাদের রাখা হয়েছে নজরদারিতে। পুলিশি কার্যক্রমের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও সংগ্রহ করছেন তাদের অপরাধের তথ্য। মাদক, চাঁদাবাজিসহ যে কোনো অপরাধে জড়ালে, কাউকে ভয়ভীতি দেখালে বা কারও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করলে গ্রেফতার অনিবার্য।

এদিকে সাম্প্রতিক কালের একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দেরিতে। এই সুযোগে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। তাই অপরাধীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে প্রতিটি জেলায় পুলিশের ৯টি ইউনিটের সমন্বয়ে সক্রিয় করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন শাখা থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, অপরাধমূলক ঘটনার বিষয়ে যে কোনো জরুরি কলে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিউআর টিম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। এই টিমে জেলা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক এবং সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় নেই। পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও এসআরবির সমন্বিত টহল এবং নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানান তিনি। মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর কেউ গাফিলতি করছে কি না, তাও নজরে রাখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তাদের প্রতি বার্তা একটাই-অপরাধী যেই হোক, আইনের আওতায় আনতে হবে। এর অংশ হিসাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সমন্বিত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, মহাসড়ক এবং অপরাধপ্রবণ জনবহুল স্থানে এই চার বাহিনীর সমন্বয়ে চেকপোস্ট ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় বুধবার সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুটি বিদেশি পিস্তল এবং ছয় রাউন্ড গুলিসহ এক আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। এদিন ২৪ মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন ও তার দুই সহযোগীকে রামপুরা এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার এবং ৫ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে এসআরবি। দুদিনে কেবল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশই (ডিএমপি) গ্রেফতার করেছে ৮৮১ জনকে।

এদিকে সাইবার বুলিংসহ ভার্চুয়ালজগতের বিশৃঙ্খলা দমনে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে যাত্রা শুরু করেছে স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’। ভুয়া খবর বা গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আর্থিক জালিয়াতি এবং নারী ও শিশুকে সাইবার বুলিং বা হেনস্তা করার প্রবণতা রোধে এই ইউনিট সরাসরি কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলেও পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে। ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে কেবল প্রত্যাহার নয়, বরং যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ক্রিমিনাল অফেন্স মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাসহ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি সক্রিয়ভাবে মাঠে আছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমাদের কাজ চলছে। সম্প্রতি গাজীপুর, রামপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে আমাদের সাঁড়াশি অভিযানে অস্ত্রসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং ভার্চুয়াল ও মাঠপর্যায়ের যে কোনো বিশৃঙ্খলা দমন করতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। গত দুদিনে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ৮৮১ জন অপরাধী গ্রেফতার হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিএমপি মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা রক্ষায় এবং সাইবারজগতের বিশৃঙ্খলা রোধে ডিএমপির ধারাবাহিক অভিযান আরও তীব্র করা হবে বলে তিনি জানান।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ পুলিশের ৯ ইউনিট নিয়ে কুইক রেসপন্স টিম

পুলিশের ৯ ইউনিট নিয়ে কুইক রেসপন্স টিম

লেনদেন ৬ কোটি টাকা কমলগঞ্জের টমেটো চারা যাচ্ছে নানা প্রান্তে

কমলগঞ্জের টমেটো চারা যাচ্ছে নানা প্রান্তে

জামায়াতের চার এমপির লিখিত অভিযোগ শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি চরমে

শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি চরমে

চট্টগ্রাম দক্ষিণে ইউপি নির্বাচন ৮ উপজেলায় প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির ‘সার্চ কমিটি’

৮ উপজেলায় প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপির ‘সার্চ কমিটি’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম