চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্পাঞ্চল
চাঁদাবাজি চুরি ঠেকাতে বসছে সিসি ক্যামেরা
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁদাবাজি ও চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই শিল্পাঞ্চলে স্থাপন করা হবে পুলিশ ক্যাম্পও। সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করবেন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য খোঁজা হচ্ছে জায়গা। এছাড়া আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিকভাবে মোতায়েনে উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে শিল্পনগরীর সড়কের ওপর বসানো অস্থায়ী ও অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্পাঞ্চলে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। আগে আওয়ামী লীগ নামধারী চাঁদাবাজরা অপকর্মে জড়িত থাকলেও তারা অনেকে এলাকা ছাড়া। এখন পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের পরিচয় দিয়ে। সাজ্জাদ একসময় দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার হিসাবে চিহ্নিত থাকলেও এখন থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না কেউ। সে হোক জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা শিবির। পয়সাওয়ালা কিংবা ধনী হলেই তাদের ওপর হামলে পড়ছে সাজ্জাদের অনুসারীরা। জার্সি বদল করে বিএনপির নামেও এই শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি চলছে। বিভিন্ন কারখানা থেকে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা চাঁদা।
চাঁদাবাজি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন গ্রুপ ও উপগ্রুপ। গ্রুপগগুলোর মধ্যেও প্রতিনিয়তই ঘটছে সংঘাত-সংঘর্ষ। চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। চাঁদাবাজি ছাড়াও পরিত্যক্ত কিংবা উৎপাদনে না থাকা বিভিন্ন শিল্প কারখানার পুরনো যন্ত্রপাতি, মেশিনারিসহ মূল্যবান জিনিস প্রতিদিন চুরি যাচ্ছে। কারখানার দারোয়ান-কেয়ারটেকারদের বেঁধে রেখেও দুর্বৃত্তরা কারখানার মূল্যবান মালামাল খুলে নিয়ে যাচ্ছে রাতের আঁধারে।
ক্ষমতার পালাবদলের পর আওয়ামী লীগের কবজা থেকে পুরো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেউ চাঁদাবাজি বা হামলা করলে তাদের নিয়ন্ত্রণকারী মূল নেতার কাছে যেতে পারলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। এখন অবস্থা এমন যে, চাঁদাবাজরা কারও কথা শুনছে না।
কালুরঘাট শিল্প এলাকায় ১৩৩টি কারখানা রয়েছে। পোশাক, প্যাকেজিং, সিমেন্ট, গ্লাস, কেবল কারখানা, বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভারের কারখানাও রয়েছে এই শিল্পাঞ্চলে। গত আড়াই বছর কালুরঘাট শিল্প এলাকা একপ্রকার অভিভাবকহীন। সন্ত্রাসীরা প্রায়ই বিভিন্ন কারখানায় প্রকাশ্যে কিংবা রাতের আঁধারে জিনিসপত্র চুরির পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বৃহস্পতিবার কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। বিসিক শিল্পনগরীর মোস্তফা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাকক্ষে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম। সভা থেকে কালুরঘাট বিসিক শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কালুরঘাট শিল্প এলাকায় ফেস ডিটেক্টেভ (পরিচয় শনাক্ত) সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। চলতি বছরের ২১ জুন এই শিল্পাঞ্চলে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া আর কারখানা লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। সূত্র অভিযোগ করেছে, নগরীর কালুরঘাট ভারী শিল্পাঞ্চলে ইউনুস্কো গ্রুপের সামনে পাঁচ যুবকের একটি দল ওই অবস্থান নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গোলাপি টি-শার্ট পরা এক যুবক পোশাক কারখানার সামনে থেকে এগিয়ে এসে প্যান্টের পেছনের পকেট থেকে পিস্তল বের করেন। এরপর কারখানার দিকে তাক করে গুলি ছোড়েন। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময়ও তাকে পিস্তল উঁচিয়ে আবার গুলি করতে দেখা যায়।
শিল্প পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বলেন, কালুরঘাট শিল্প এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো সিসিটিভির আওতায় আনা হচ্ছে। জায়গা বরাদ্দ পেলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প চালু করা হবে।
