Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

৯ মাসে ১৯ হাজার ৮৪৬টি অগ্নিকাণ্ড

৪৫৩ কোটি টাকা ক্ষতি

Advertisement

Icon

ইমন রহমান

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

গত ২৭ জুন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের কাঁটাবনে একটি ১৪ তলা আবাসিক ভবনের ১২ তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবন থেকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়। ১৬ জানুয়ারি ভোরে রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ভবনে বসবাসকারী দুটি পরিবারের ৬ জন মারা যান। সর্বশেষ শনিবার ভোরে কক্সবাজারের ইনানী বিচসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন মারা গেছেন। দগ্ধ হয়েছেন অনেকে।

আগুনে প্রাণহানির পাশাপাশি দেশের বিপুল পরিমাণ সম্পদেরও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বার্ষিক অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এসব অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ১৯ হাজার ৮৪৬টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এসব ঘটনায় ৪৫৩ কোটি ৫ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আগুনে সবচেয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয় বাসাবাড়িতে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে। এ সময়ের মধ্যে সব পুড়ে শেষ হয়ে যায়। যদিও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, আগুনের ফাস্ট রেসপন্ডার (প্রথম সারাদানকারী) ওই বাসা বা প্রতিষ্ঠানের লোকজন। তাদের প্রশিক্ষণ এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ছাড়া ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব না। আগুনের সংবাদ পাওয়ার পর স্টেশন থেকে তাৎক্ষণিক বের হলেও যোগাযোগব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে পাঁচ বছরে দেশে অগ্নিকাণ্ডে ২ হাজার ৩৬৯ কোটি ৫২ লাখ ৪০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতির তথ্য রয়েছে। ওই সময়ে (পাঁচ বছর) সবচেয়ে অগ্নিকাণ্ড হয় বাসাবাড়িতে। ২০২৫ সালে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়। এ বছরও বাসাবাড়ি বা আবাসিক ভবনে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ২৬৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রাণহানি হয় ৮৫ জনের।

বিশ্লেষণভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৭ হাজার ৫৯টি আগুনের ঘটনায় বৈদ্যুতিক গোলযোগে ৯ হাজার ৩৯২টি ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ মোট অগ্নিকাণ্ডের ৩৬ শতাংশই বৈদ্যুতিক গোলযোগ বা শর্টসার্কিট থেকে ঘটেছে। ২০২৪ সালে ২৬ হাজার ৬৫৯টি অগ্নিকাণ্ডে আর্থিক এই ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪৪৬ কোটি ২৮ লাখ ৩ হাজার টাকা। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি হয় ৭৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা। আগুনে অকালে ঝরে গেছে অসংখ্য প্রাণ। অগ্নিনিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সচেতনতার অভাব ও নিুানের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর কারণে ঘটছে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা। এতে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতির মধ্যে পড়ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, দেশের উন্নতি হচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রি বাড়ছে। প্রতিবছরই ইলেকট্রিসিটি, কেমিক্যালের ব্যবহার বাড়ছে। যত ইলেকট্রিসিটির ব্যবহার বাড়বে, যত কেমিক্যাল ব্যবহার হবে; এতে দাহ্যবস্তুর সরবরাহও বাড়বে। কিন্তু এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা বাড়ছে না। ভবনগুলোয় ফায়ার সেফটি বাড়ানো হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি কমাতে হলে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একটি হলো ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা, অন্যটি ফার্স্ট রেসপন্ডারের (প্রথম সারাদানকারী বা ব্যবহারকারী) সক্ষমতা। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ফায়ার সেফটির ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। কারণ, কোথাও আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিস যতই চেষ্টা করুক অন্তত ১০-১৫ মিনিট লেগে যাবে। কিন্তু এই ১৫ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে পুড়ে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ফার্স্ট রেসপন্ডার বা সেই প্রতিষ্ঠান বা যারা ব্যবহার করছেন, তাদের ভবনের বাসিন্দাদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তারা যেন ইকুইপমেন্টগুলো ব্যবহার করে আগুন লাগার শুরুতেই তীব্রতা আটকে দিতে পারেন। ফায়ার সার্ভিস ১৫ মিনিট পর গেলও তখন তারা এটিকে ড্রিল করে তাড়াতাড়ি নেভাতে পারবে।

সাবেক এই মহাপরিচালক আরও বলেন, অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি যে যখন অবহেলা করবে, তখনই আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। আগুন লাগার পরিসংখ্যানের বিষয়ে তিনি বলেন, অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধি পায়। কারণ, এ সময় শুষ্ক মৌসুম থাকে। তীব্র গরমে অল্প একটু স্পার্ক হলে সিগারেট থেকেও আগুন লেগে যায়। শুষ্ক মৌসুমে হিটার ব্যবহার বাড়ে বলে দুর্ঘটনা বাড়ার শঙ্কা থাকে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেইন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, আইনের প্রতি আমাদের যতটুকু শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত, বিল্ডিং কোড যতটুকু মানা উচিত বা ফায়ারের বিষয়গুলো মাথায় রেখে ভবনে যেসব জিনিস স্থাপন করা উচিত-এগুলো হয়তো কাগজ-কলমে দেখছি। বাস্তবে প্রয়োগ করছি না।

আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিস বিলম্ব করে ঘটনাস্থলে যায়-এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের নরমাল প্র্যাকটিস আগুনের সংবাদ পাওয়ার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে স্টেশন থেকে বের হওয়া। সেটা সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করি। যার রেকর্ড স্টেশনেও থাকে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

এসএসসির পরই ঝরে পড়ছে বেশি বরিশালে ক্রমেই বাড়ছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী

বরিশালে ক্রমেই বাড়ছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী

ছাত্রদল নেতার আহাজারি ‘আমি ওরে ছাড়া থাকমু কেমনে’

‘আমি ওরে ছাড়া থাকমু কেমনে’

৯ মাসে ১৯ হাজার ৮৪৬টি অগ্নিকাণ্ড ৪৫৩ কোটি টাকা ক্ষতি

৪৫৩ কোটি টাকা ক্ষতি

কৃষি-রোবট বানিয়ে মালয়েশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন মানিকগঞ্জের হাসিবুর

কৃষি-রোবট বানিয়ে মালয়েশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন মানিকগঞ্জের হাসিবুর

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম