কৃষি-রোবট বানিয়ে মালয়েশিয়ায় চ্যাম্পিয়ন মানিকগঞ্জের হাসিবুর
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাটির নিচে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি, ফসলের পাতায় রোগের লক্ষণ কিংবা জমিতে ক্ষতিকর আগাছার উপস্থিতি শনাক্ত করতে এবার কৃষকের সহায় হতে পারে রোবট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেন্সর, ক্যামেরা ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির সমন্বয়ে এমনই স্মার্ট কৃষি-রোবট উদ্ভাবন করেছেন মানিকগঞ্জের তরুণ উদ্ভাবক হাসিবুর রহমান খান। তার এই উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত পরিবেশ বিজ্ঞান ও টেকসই প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি।
হাসিবুর খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রৌহাদহ গ্রামে। তার এই রোবট জমির মাটির গুণাগুণ ও আর্দ্রতা পরীক্ষা করতে পারে। একই সঙ্গে ফসলের রোগাক্রান্ত অংশ ও ক্ষতিকর আগাছা শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও পানি ব্যবহারের বিষয়ে কৃষককে তথ্য দেয়।
হাসিবুরের উদ্ভাবিত রোবটটি জমিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করে মাটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটিতে কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে সে সম্পর্কেও ধারণা দেয় এটি। পরীক্ষামূলক ব্যবহারে মাটিতে নাইট্রোজেন ও পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকার পাশাপাশি ফসফরাসের মাত্রাও শনাক্ত করেছে রোবটটি। পরে মোবাইলের স্ক্রিনে সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ও পরিমাণসংক্রান্ত তথ্য প্রদর্শন করে। রোবটটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে যুক্ত এআই ক্যামেরা ফসলের পাতা ও উদ্ভিদের ছবি বিশ্লেষণ করতে পারে। এর মাধ্যমে ফসলের রোগাক্রান্ত অংশ এবং ক্ষতিকর আগাছা শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে জমির প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সার ও পানি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কৃষক। এতে অপ্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার কমার পাশাপাশি কৃষিকাজে সময়, শ্রম ও অর্থ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়াইফাই কিংবা ব্লুটুথের মাধ্যমে রোবটটিকে মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। ফলে কৃষক দূর থেকেই মাটির তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং রোবটের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
হাসিবুর জানান, মালয়েশিয়ার সাইবারজায়ায় মালটিমিডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড সাসটেইনেবল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট গোলস ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি। সেখানে ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হন। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবকরা প্রতিযোগিতাটিতে অংশ নেন। নিজের উদ্ভাবিত স্মার্ট কৃষি-রোবটের জন্য তিনি প্লাটিনাম উইনার বা চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়া সব বিভাগ মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার, পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সম্মাননা ও স্বর্ণপদক লাভ করেন তিনি। হাসিবুর বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি আনন্দিত। হাসিবুরের বাবা আব্দুল ওয়াহাব খান বলেন, ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু তৈরির প্রতি ওর তীব্র আগ্রহ ছিল। যে কোনো সমস্যার সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজতে ভালোবাসত সে।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, মাটির গুণাগুণ নির্ণয়, ফসলের রোগ শনাক্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার ও পানি ব্যবহারে এ ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এটি সহায়ক হতে পারে।
