এসএসসির পরই ঝরে পড়ছে বেশি
বরিশালে ক্রমেই বাড়ছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী
Advertisement
অনিকেত মাসুদ, বরিশাল
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্কুলের গণ্ডি পেরিয়েও প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না বরিশাল বিভাগের হাজারো শিক্ষার্থীর। এক দশকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে জেএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত কমেছে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী। এর পেছনে দারিদ্র্য ও আর্থিক সংকট, পড়াশোনার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া, বাল্যবিয়ে, যাতায়াত সমস্যা, পড়াশোনায় অনাগ্রহ ও অনিয়মিত উপস্থিতি এবং করোনাকালে পড়াশোনার ছন্দপতনসহ বেশ কিছু কারণ দায়ী।
২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেএসসিতে অংশ নেওয়া ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮৫ জনের মধ্যে এইচএসসি পর্যন্ত পৌঁছেছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ২০১ জন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র-করোনাকালীন ২০২০ সালের ব্যাচে। এ ব্যাচে শিক্ষার্থী কমার হার ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, জেএসসি থেকে এসএসসি পর্যায়ে কমেছে ৯৮ হাজার ৪৬০ জন। এসএসসি থেকে এইচএসসি পর্যায়ে কমেছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ১২৪ জন। অর্থাৎ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে যাওয়ার পথেই শিক্ষার্থী কমার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি করোনাকালীন ২০২০ সালের ব্যাচে। জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৫ জন। ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯০ হাজার ২০০ জন। এ পর্যায়ে কমে ২৯ হাজার ৪৮৫ জন বা ২৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পরে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৫৯ হাজার ২৪৫ জন। এসএসসি থেকে এইচএসসিতে কমে আরও ৩০ হাজার ৯৫৫ জন বা ৩৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। জেএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত এ ব্যাচে মোট কমেছে ৬০ হাজার ৪৪০ জন বা ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ এ ব্যাচে জেএসসিতে অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৫০ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সালের ব্যাচে জেএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষার্থী কমার হার ছিল ২৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ২০২০ সালের ব্যাচে তা বেড়ে হয়েছে ৫০ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে এ হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পেছনে পরিবারের আর্থিক সংকট, পড়াশোনার ব্যয়বৃদ্ধি, বাল্যবিয়ে এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কাজে যুক্ত হয়ে পড়াকে প্রধান কারণ হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার পেছনে আর্থিক সংকট, পরিবারের আয় কমে যাওয়া, বাল্যবিয়ে, শিক্ষার ব্যয়বৃদ্ধি এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের কাজে যুক্ত হয়ে পড়া বড় কারণ। মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনার ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে। ঝরে পড়া রোধে প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা অব্যাহত রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরিফ মোর্শেদ রেজা বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় থাকছে না, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে আমরা সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
