যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত
Advertisement
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোসল করাকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে কানে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ভুক্তভোগীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার। ভুক্তভোগী ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জুয়েল আল ইমরান। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হক। ঘটনার পর থেকে এক কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন ইমরান। এ ঘটনায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
ইমরান জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি গোসলের জন্য ওয়াশরুমে ঢুকে একটি বালতি দেখতে পান। তিনি সেই বালতি বাইরে রেখে গোসল করতে থাকেন। এ সময় তানভীর হক এসে দরজায় বারবার টোকা দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বের হলে তানভীরের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর তিনি রুমে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তানভীর তার রুমে ঢুকে নানাভাবে হুমকি দেন। বলতে থাকেন, আমি আগের মতো নেই, যদি আগের মতো থাকতাম, তাহলে তোকে এখন মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলতাম।
ঘটনার পর বিকালে তার বন্ধুরা বিষয়টি মীমাংসা করতে তাকে চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত তানভীর, কাব্য ও অস্কার তাকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। একপর্যায়ে হঠাৎ তানভীর তার কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দিয়ে তাকে বসার টেবিল থেকে ফেলে দেন। এরপর কী হয়েছে, তা আর বলতে পারেননি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। পরে তার বন্ধুরা তাকে মেডিকেলে নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল বলেন, ইমরানের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রক্ত জমে আছে। দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ পরীক্ষা সম্পন্ন হলে তার পরবর্তী অবস্থা জানা যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে তানভীর বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুম থেকে তার কাপড়ভর্তি বালতি বাইরে রেখে জুয়েল গোসল করতে যান। বিষয়টি জানতে চাইলে জুয়েল তার সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পর ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলায় তারা বসেন। তানভীরের দাবি, কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তার বন্ধুরা তার প্রতি মারমুখী আচরণ করেন। ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন।
ঘটনার বিষয়ে শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, আমি মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনেছি। ঘটনা লিখিত আকারে জমা দিতে বলেছি। সত্যতা যাচাইয়ের পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
