অন্য খেলোয়াড়দের দাবার বোর্ড হতে চায় না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ
Advertisement
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছে, যেখানে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা অন্য খেলোয়াড়দের খেলার জন্য দাবার বোর্ড হতে চাই না। আমরা আমাদের নিজেদের শর্তে খেলতে চাই। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আমাদের জনগণের স্বার্থ। শনিবার রাজধানীতে পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’র একটি সেশনে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশকেও উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। যেখানে আমাদের দুটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হলো অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকট এবং অন্যটি হলো বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাস ও কাজ করেন। সেই সময়ে আমরা উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে কর্মরত ১৪ বাংলাদেশিকে হারিয়েছি।
শামা ওবায়েদ বলেন, যুদ্ধের কারণে আমাদের নতুন সরকারের মূলনীতি সব সময়ই ছিল অর্থনীতি, কূটনীতি এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সব সময় যেমন ছিল, এখন তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক আর তা হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈচিত্র্যকরণ, নতুন উৎস এবং নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি, যেখান থেকে আমরা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারি। সেই সঙ্গে দেশে আমাদের নিজস্ব গ্যাস এবং এলএনজি’র উৎস রয়েছে, যা এর আগে বা বিগত সরকারের আমলে কখনো অনুসন্ধান করা হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার, আমরা ইতোমধ্যেই এর অনুসন্ধান শুরু করেছি। আমরা সৌরবিদ্যুতের দিকে নজর দিচ্ছি এবং প্রতিটি নাগরিককে জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ১০ বছরেরও বেশি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা আমাদের অর্থনীতির ওপর একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ সব সময়ই এই বিষয়ে অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা আমাদের অংশীদার, বন্ধু, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলছি, যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন সম্ভব করার জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
