মাধ্যমিক স্তর
প্রশিক্ষণ পাবেন ৩ লাখ ৬৭ হাজার শিক্ষক
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ * মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি করা হচ্ছে -লেইস পিডি * শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই-মাউশির ডিজি
Advertisement
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বড় পরিসরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও শিখন ঘাটতি দূর করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ শিক্ষককে বিভিন্ন মেয়াদে এবং বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নবীন শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সমন্বিত শিক্ষা, গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি-বিস্তৃত পরিসরে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক ট্রেনিং পেয়েছেন। বর্তমানে আরও ২ হাজার ২৬০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রকল্পটি (লেইস) ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের লক্ষ্য মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিখন দ্রুততর ও স্থায়ী করা, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও দুর্যোগসহনশীল করে গড়ে তোলা। এর আওতায় নবীন শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ, বিষয়ভিত্তিক পেশাগত উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পরামর্শদান, হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ, গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত শিক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষকদের দক্ষতা হার ১৫ শতাংশের উন্নীত করা হবে। এ প্রসঙ্গে লেইস প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিকের শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষকদের দক্ষতাও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৬ হাজার ৮৮০ নবীন শিক্ষককে ৫৬ দিনব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। ১৪টি সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে এ প্রশিক্ষণ হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৫ হাজার ১৬০ শিক্ষক এ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ১০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ৫৩ হাজার ৭৬০ শিক্ষককে : বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে ৫৩ হাজার ৭৬০ শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৬০ শিক্ষক এ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। চলতি অর্থবছরে আরও ২০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ পাবেন ২৮ হাজার ৮০০ প্রতিষ্ঠানপ্রধান : বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং মাদ্রাসার সুপার, সহকারী সুপারসহ ২৮ হাজার ৮০০ প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে ২১ দিনের নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ অর্থবছরে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় ১১ হাজার শিক্ষক : মাধ্যমিক পর্যায়ের ১১ হাজার শিক্ষককে ১০ দিনের জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার ২৮০ শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এ অর্থবছরে আরও ৮ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ২ হাজার শিক্ষককে : সাধারণ ধারার স্কুল ও মাদ্রাসায় চালু থাকা কারিগরি কোর্সের ২ হাজার শিক্ষককে ১০ দিনের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের ১০টি বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭৪৫ শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
মানসিক স্বাস্থ্য ও হয়রানি প্রতিরোধে প্রশিক্ষণ : শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, পরামর্শদান, হয়রানি প্রতিরোধ এবং বিদ্যালয়কেন্দ্রিক নারী-পুরুষভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
২৯ হাজার ৬২১ গ্রন্থাগারিকের প্রশিক্ষণ : স্কুল ও মাদ্রাসার ২৯ হাজার ৬২১ গ্রন্থাগারিককে গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এর মধ্যে স্কুলের ২০ হাজার ৩৫৩ এবং মাদ্রাসার ৯ হাজার ২৬৮ জন রয়েছেন।
সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ : প্রকল্পের আওতায় ৫৯ হাজার ১৭০ শিক্ষককে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় প্রশিক্ষণ ২৯ হাজার ৫৮৫ শিক্ষককে : তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে ২৯ হাজার ৫৮৫ শিক্ষককে ৩০ দিনব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল যুগান্তরকে বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য নয়; এতে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শ্রেণিকক্ষে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

