মাদকবিরোধী অভিযানের ভয়ে ঝাঁপ
শেরপুরে নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ পরদিন উদ্ধার
Advertisement
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শেরপুরে শনিবার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অভিযানে ভয় পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সৈয়দ সাদমান জয় (২২) পাশের নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। এরপর নদীতে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ২৬ ঘণ্টা পর রোববার সন্ধ্যার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের ভাটারাঘাটের কাছে নদী থেকে ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ওহেদুন্নী ওরফে মাখন মিয়ার ছেলে জয় ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার মা শাহনাজ পারভীন শেরপুর সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শেরপুর শহরের মধ্যশেরী এলাকায় পরিবারটি ভাড়া থাকে। জয় একসময় হ্যালোডটবিডিনিউজের শিশু সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
জানা গেছে, শনিবার বিকালে এক বন্ধুকে নিয়ে জয় ভাটারাঘাট এলাকায় মৃগী নদীর তীরে বেড়াতে যান। এ সময় সেখানে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে যুবক জাকারিয়াকে গাঁজাসহ আটক করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কিন্তু অভিযানের সময় ভয় পেয়ে জয় দৌড়ে মৃগী নদীতে ঝাঁপ দেন। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রোববার জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মৃগী নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মুস্তাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শনিবার ভাটারাঘাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় একজনের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে সাজা দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সময় সেখানে জয় বা অন্য কাউকে আমরা দেখিনি।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার যুগান্তরকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহযোগিতায় জয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার রাতে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে জয়ের লাশ দাফন করা হয়।
