নয় মাস পর উৎপাদনে যমুনা সার কারখানা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
১৫ দিন চেষ্টার পর যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে (জেএফসিএল) উৎপাদন শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে বের হয়েছে ইউরিয়া। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৯ মাস পর উৎপাদনে এলো দেশের অন্যতম প্রধান সার কারখানাটি। তবে কাটেনি শঙ্কা। গ্যাসের চাপ প্রয়োজনীয় মাত্রায় না থাকলে আবারও থমকে যেতে পারে চাকা। গ্যাস সংকটে প্রায় আড়াই বছর ধরেই কারখানাটি স্বাভাবিক উৎপাদনে থাকতে পারেনি।
এ দফায় ২০ সেপ্টেম্বর যমুনা সার কারখানা চালু করা হয়। ১৫ দিনে কারখানাটি প্রতিদিন এক কোটি টাকার বেশি গ্যাস পুড়িয়েছে। কিন্তু গ্যাসের উপযুক্ত চাপ না থাকায় অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন করতে পারেনি। এই হিসাবে এ কয়দিনে প্রায় ২০ কোটি টাকার গ্যাস পুড়িয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই কারখানায় ১ হাজার ৩০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়েছে। গত ডিসেম্বরে যমুনা সর্বশেষ ইউরিয়া সার উৎপাদন করেছে। কিছুদিন চালিয়ে ১৭ জানুয়ারি থেকে বন্ধ রাখা হয়। এখন দেশে সার সংকট। তাই সরকার সাভারসহ বিভিন্ন এলাকার গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে যমুনায় গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়েছে।
যমুনা সার কারখানার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফজলুল হক যুগান্তরকে জানান, এতদিন পেট্রোবাংলা, তিতাস ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি যমুনার জন্য যথাযথ চাপে গ্যাস দিতে পারেনি। এখানে ইউরিয়া উৎপাদন করতে প্রয়োজন হয় ৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু এ কদিন সরবরাহ করা হয়েছে ৩ কোটি ঘনফুটের কম। এতে অ্যামোনিয়াও উৎপাদন করা যাচ্ছিল না। সোমবার গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর পর অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করে এটি। এরপর আরও সরবরাহ বাড়ানোর পর মঙ্গলবার শুরু হয় ইউরিয়া সার উৎপাদন। এ ১৫ দিনে যমুনার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৫ কোটি টাকার বেশি। জামালপুরের তারাকান্দিতে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা বসানো হয় ১৯৯১ সালে। তিতাসের এলেঙ্গা লাইন দিয়ে এটিকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ওই পর্যন্ত গ্যাস নিতে অনেক শিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাসের সরবরাহ কমাতে হয় তিতাসকে। দেশে গ্যাসের সরবরাহ প্রতিবছর কমছে।
