কুমিল্লার পদুয়ার বাজার
আলোর পেছনে ভয়ংকর অপরাধীচক্র
পুলিশের পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে : অভিযোগ স্থানীয়দের * কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর পর সবশেষ শিকার কিশোরী তাজমীন * নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ
Advertisement
আবুল খায়ের, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার-বিশ্বরোড এলাকায় আলোর ঝলকানির পেছনে ভয়ংকর অপরাধীচক্র গড়ে উঠেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে নগরীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এ পয়েন্ট এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন মাঝরাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এখানে নামেন শত শত যাত্রী। গভীর রাতে বাস থেকে যাত্রী নামলেই ছদ্মবেশী সিএনজিচালিত
অটোরিকশাচালক ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা যাত্রী তুলে নিয়ে সর্বস্ব লুট, খুন, ধর্ষণ ও অপহরণ করছে। সম্প্রতি কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর পর এই এলাকার অপরাধী চক্রের হাতে জীবন গেছে স্কুলছাত্রী জান্নাতুত তাজমীনের। এতে জেলাজুড়ে আলোচনায় পদুয়ার বাজার-বিশ্বরোডের অপরাধচিত্র।
সরেজমিন দেখা যায় নগরীর প্রবেশদ্বার পদুয়ার বাজার-বিশ্বরোডে ২৪ ঘণ্টার কর্মচাঞ্চল্য। এই পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কুমিল্লা নগরীতে প্রবেশ করে। এলাকাটি খুব আলো ঝলমলে। সেখানে হোটেল নুরজাহানসহ আশপাশের হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। দিনরাত এলাকাটি থাকে কর্মচঞ্চল। সম্প্রতি পদুয়ার বাজারের আলোর ঝলকানির পেছনে গড়ে উঠেছে ভয়ংকর অপরাধীচক্র।
স্থানীয়রা জানায়, ভাসমান অপরাধীচক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে পদুয়ার বাজার-বিশ্বরোড এলাকা। এখানে ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, অপহরণ ও ধর্ষণ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অপরাধীরা ওই এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের ছদ্মবেশে ভয়ংকর অপরাধে লিপ্ত রয়েছে। মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, গুম, খুনের ঘটনায় জড়িত এই ভাসমান অপরাধীরা। সবশেষ স্কুলছাত্রী জান্নাতুত তাজমীনের ক্ষতবিক্ষত লাশ ধানখেত থেকে উদ্ধারের পর কুমিল্লাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক আলামতে উঠে এসেছে নির্মম সত্য-হত্যার আগে তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে ২৫ এপ্রিল একই এলাকায় ছিনতাইকারীদের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারানো কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর কথা। বিশ্বরোডকেন্দ্রিক একই অপরাধচক্র বারবার রক্ত ঝরালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই বিশেষ পয়েন্টে রাতে হাইওয়ে ও স্থানীয় থানা পুলিশের নিয়মিত টহল শিথিল থাকার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, পদুয়ার বাজার এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এখানে অপরাধপ্রবণতা দমনে সাঁড়াশি অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
