সচিবালয়ে সক্রিয় সিন্ডিকেট
কোম্পানিকে ডিও লেটার প্রতিমন্ত্রী জানেন না
Advertisement
আমিরুল ইসলাম
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারের প্রতিমন্ত্রীর নামে ডিও লেটার (আধা-সরকারিপত্র) জাল করে কাজ বাগিয়ে নিতে গিয়ে ধরা পড়েছে একটি কোম্পানি। ডিও লেটারটি জাল এটা নিশ্চিত হওয়ার পর তা বাতিল করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। জাল জালিয়াতির সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত তা অনুসন্ধানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। একই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। তারাও সিআইডিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে।
ডিও লেটারটি ইস্যু হয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সরকারি প্যাডে। অথচ তিনি কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেন, এই ডিও লেটারের বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। পরে যখন জানতে পারলাম, তখন বিষয়টি সিআইডিকে তদন্ত করতে অনুরোধ করেছি। কারা এত বড় জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে মনে করছেন-এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হয়তো আমার দপ্তরের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া জরুরি। সিআইডি কিছু জানিয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনো কিছু জানায়নি। হয়তো তারা তদন্ত করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সরকারি প্যাডে মেসার্স শাহজালাল ট্রেডিং কোম্পনিকে একটি ডিও লেটার দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিকের নাম উল্লেখ রয়েছে-সৈয়দ সালওয়ান সলীম। ডিও লেটারের বিষয় ছিল, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করতে সিলেটের বালাগঞ্জ ও ফেন্সুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর বুকে জেগে ওঠা চর থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে ভিটে মাটি উত্তোলন। এতে বলা হয়, মেসার্স শাহজালাল ড্রেডিং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে সরবরাহের জন্য ৫০ লাখ ঘনফুট মাটি উত্তোলনে দায়িত্বপ্রাপ্ত। প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তা দেওয়া হলে কাজে সহায়তা করা হবে।
ডিও লেটারে বলা হয়, ঢাকা-সিলেট রোডের নিকটবর্তী সিলেট জেলার বালাগঞ্জ ও ফেন্সুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীতে জেগে ওঠা চর থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে ভিটে মাটি উত্তোলনের অনুমতি দিতে আপনার কাছে আবেদন করছি। আবেদনটি সরকারি বিধি, পরিবেশগত বিষয় এবং প্রচলিত আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিশেষভাবে সুপারিশ করা হলো।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটারসহ আবেদন পাওয়ার পর ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ডিও লেটারের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। তিনি ফোন করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে ভূমি প্রতিমন্ত্রীকে জানান, এই ডিও লেটার বা কোম্পানির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। তিনি তাদের চেনেন না। তিনি ডিও লেটার ইস্যু করেননি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে সচিবালয়ে শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। কে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারা এত বড় ঘটনা ঘটিয়ে তা জানা দরকার।
এরপর ভূমি প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে এখনো অনুসন্ধান করে পুলিশ কিছুই বের করতে পারেনি বলে জানা গেছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানালেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বলে চক্রটিকে ধরা সহজ না। সচিবালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ডিও লেটার জাল করার শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রণালয়ে এই জালিয়াতি চক্র জালের মতো ছড়িয়ে আছে।
তারা জানান, অতীতেও এ ধরনের ডিও লেটার চালাচালির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু একটি ঘটনারও সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার হয়নি। কালক্রমে এটি একটি চক্রের পেশা হয়ে হয়ে গেছে। তবে সরকার আন্তরিক হলে এবং কর্মকর্তারা চক্রটি ধরার জন্য মন থেকে চেষ্টা করলে প্রকৃত সত্য বের করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
