রাজশাহীতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি
বিকল্প জ্বালানিতে ঝুঁকছে মানুষ
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে রাজশাহীর বাজারে চাহিদাও কমছে। পাশাপাশি রান্নার জ্বালানি হিসাবে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন নগরীর মানুষ। ক্রেতারা বলছেন, এমনিতেই গ্যাস সিলিন্ডারের দামে নৈরাজ্য চলছে। আবার সংকট দেখিয়ে সরবরাহ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। এভাবে রান্না করে খাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন তারা বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ ব্যবহার করছেন ইলেকট্রিক চুলা আবার কেউ কাঠের খড়ির পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছেন। ১২ কেজি ওজনের একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম সরকারিভাবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজশাহীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, একই সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্রেতাকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে একটি সিলিন্ডার। আবার গ্রামে ও শহরতলীতে ১২ কেজির সিলিন্ডার পেতে ক্রেতাকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার জমা দিয়ে অন্য কোনো কোম্পানির নতুন সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। কারণ সরবরাহ নেই। দোকানিরা বলছেন, অন্য কোম্পানির নিলে গ্যাসসহ সিলিন্ডারের দাম বেশি দিতে হবে। ক্রেতাকে বাধ্য হয়ে তাই চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে।
রাজশাহীর টিকাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রায়হানুল ইসলাম বলেন, মাসখানেক আগেও ১ হাজার ৭৫০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছি। এখন ২ হাজার ১০০ টাকার কমে মিলছে না। আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা আর্থিক চাপে পড়েছেন। সংসারের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প জ্বালানি হিসাবে খড়ি দিয়ে রান্নার কথা ভাবতে হচ্ছে। জানা গেছে, যারা নগরীতে নিজের বাসাবাড়িতে বসবাস করেন তারা রান্নার কাজে খড়ির ব্যবহার শুরু করেছেন। এদিকে, সরবরাহ সংকটের কারণে সব কোম্পানির সিলিন্ডার নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না-জানিয়েছেন রাজশাহীর কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী।
নগরীর ডাবতলার বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে এবং নতুন সিলিন্ডারের বাড়তি দাম এড়াতে তিনি কাঠের খড়ি ও ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার শুরু করেছেন। প্রথমদিকে কিছু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন সবাই। নগরীর সাগরপাড়া মহল্লার সিলিন্ডার বিক্রেতা মোজাহার এন্টারপ্রাইজের মালিক বৃষ্টি খাতুন জানান, পাইকারি পর্যায়েই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এর ওপর পরিবহণ খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আনুসঙ্গিক খরচও বেড়েছে। এখন বেশি দামে বিক্রি না করলে ব্যবসা চালানোই যাবে না। উত্তরপাড়ার সিলিন্ডার বিক্রেতা ইউসুফ জানান, নতুন কিছু কোম্পানির সিলিন্ডার আসছে কিন্তু ক্রেতারা কিনতে চাচ্ছেন না। এ কারণে সিলিন্ডারের চাহিদাও কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের জন্য সংকট বহুমুখী।
সিলিন্ডার বাজারের অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ঘনঘন গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো ও সরবরাহ সংকট ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে রান্নার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।
