সাইলো থেকে চাঁদা ছাড়া ট্রাক বের হতে দিচ্ছে না সন্ত্রাসীরা
ট্রাকপ্রতি ২ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় না দিলে মারধর
Advertisement
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁদা ছাড়া চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত দেশের একমাত্র সাইলো থেকে সরকারি গমবাহী ট্রাক বের করতে দিচ্ছে না সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ ট্রাক মালিক সমিতির নামে ট্রাকপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে ট্রাক আটকে দিচ্ছে, ছিনিয়ে নিচ্ছে সরকারি ভি-ইনভয়েস। খাদ্য বিভাগের ঠিকাদার ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিদের মারধরও করছে। তবে পরিবহণ ঠিকাদাররা ভয়ে এসব চাঁদাবাজের নাম প্রকাশ করতে রাজি হচ্ছেন না। অনেকেই অপরিচিত হলেও তারা নিজেদের সরকারি দলের লোক দাবি করছে। জসিম ও হাশেম ওরফে বল্লার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এই চাঁদাবাজি শুরু করেছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম সাইলোর গেটে সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শনিবার সকালে সাইলো থেকে বের হওয়া একাধিক ট্রাক জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করার পর রোববার থেকে খাদ্যশস্য, বিশেষ করে গমবাহী ট্রাক চাঁদা ছাড়া সাইলো থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি ট্রাক থেকে ২ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। পরিবহণ ঠিকাদাররা অভিযোগ করেছেন, লোকাল প্রোগ্রামের জন্য অর্থাৎ যেসব গমবাহী ট্রাক সাইলো থেকে হালিশহর সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো-(সিএসডি) ও দেওয়ানহাট সিএসডি যায় ওইসব ট্রাক থেকে দুই হাজার টাকা। আর যেসব ট্রাক বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে যায় সেসব ট্রাক থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। শনিবার দিনভর এ হারে চাঁদা আদায়ের পর রোববার সকাল থেকে আবারও চাঁদার জন্য গেটে অবস্থান নেয় সন্ত্রাসীরা। সকাল ৯টায় লোড করা গমের গাড়ি দুপুর ১টা পর্যন্ত তারা বের করতে দেয়নি। ডিআরটিসির পরিবহণ ঠিকাদার মেসার্স আরেফিন এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি ইমতিয়াজ যুগান্তরকে জানান, ‘রোববার সকাল ৯টায় রাঙামাটি সদরে যাওয়ার জন্য ট্রাকে গম লোড করে বসে আছি। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ভয়ে বের করতে পারছি না। ট্রাক নিয়ে বের হলেই দিতে হবে চাঁদা। এজন্য সকাল থেকে ট্রাক লোড করে বসে আছি।’
তিনি আরও বলেন, এসব সন্ত্রাসীদের নাম-পরিচয় জানি না। হঠাৎ করেই কয়েকদিন থেকে তারা বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তারা বলছে, আমরা নাকি সরকারি গম সরকারি গুদামে না নিয়ে বাইরে বিক্রি করে ফেলি। এজন্য তারা টাকা ছাড়া কোনো গাড়ি বের হতে দেবে না। এখান থেকে কৌশলে ট্রাক বের করলেও চাঁদার জন্য সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকের পিছু নেয়। সরকারি ভি-ইনভয়েস কেড়ে নেয়। মারধর করে।
চট্টগ্রাম সাইলোর সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী মো. সাকিবুল হাসান শিশির যুগান্তরকে বলেন, সকাল থেকে কোনো গমবাহী ট্রাক বাইরে যেতে পারেনি। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে সাইলোর বাইরে। এই কারণে আমাদেরও করার কিছু নেই। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারেন। পতেঙ্গা থানার ওসি মো. পারভেজ আলী বলেন, আমি প্রথম আপনার কাছ থেকে এমন কথা জানলাম। সাইলো কর্তৃপক্ষ ও পরিবহণ ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলেই হয়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে সরকারি গমবাহী ট্রাক বের করা যাবে না-এটাতো হয় না।
