সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে ক্ষোভ-অভিযোগ
ডিলারশিপ না পেয়ে ‘গুডবাই’ যুবদল নেতাকে অব্যাহতি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ডিলারশিপ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলকে ‘গুডবাই’ জানিয়ে অব্যাহতি পেয়েছেন এক যুবদল নেতা। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একই পরিবারের শাশুড়ি ও পুত্রবধূর নামে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নগরকান্দায় নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বঞ্চিত আবেদনকারীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারি নীতিমালা অনুসরণের দাবি করেছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সংসদ-সদস্য। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
মানিকগঞ্জ : সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেনকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা যুবদল।
সারের ডিলারশিপ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলকে ‘গুডবাই’ জানানোর পর তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়।
সাদ্দাম হোসেনের দাবি, দলের জন্য তিনি ও তার বাবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তাদের পারিবারিক ব্যবসা সার বিক্রি। বিধিমালা অনুযায়ী সারের লাইসেন্সের আবেদন করেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে তিনি নিজেই দলকে বিদায় জানিয়েছেন।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম জানান, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে প্রার্থীর নাম উপজেলা সার ও বীজ কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। পরে জেলা কমিটি সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ৬ অক্টোবর নতুন ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় দরগ্রাম ইউনিয়নের ডিলার হিসাবে মো. রুহুল আমীনের নাম রয়েছে।
ফরিদপুর ও নগরকান্দা : ভাঙ্গা উপজেলায় শাশুড়ি শিউলি আক্তারের নামে আগের ডিলারশিপ থাকা সত্ত্বেও পুত্রবধূ সুমাইয়া আক্তারের নামে নতুন ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্য আবেদনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে এবং তথ্য গোপন করে সুমাইয়া আক্তারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন তারা। শিউলি আক্তারের বড় ছেলে পলাশ বিশ্বাস জানান, তার মায়ের নামে আগে থেকেই ডিলারশিপ রয়েছে। নতুন ডিলারশিপ পাওয়া সুমাইয়া তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী। বাবা মারা যাওয়ার পর তারা পৃথকভাবে বসবাস করছেন বলে দাবি করেন তিনি। ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নাম কীভাবে তালিকায় এসেছে, তা তদন্ত কমিটি জানে। তার ধারণা, পৃথক পরিবার হলে একই পরিবারের বিষয়টি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, একই পরিবারের দুজন ডিলারশিপ পেয়ে থাকলে তদন্ত করে বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জামানও বলেন, একই পরিবারের দুজন ডিলার হওয়ার সুযোগ নেই। এমনটি হয়ে থাকলে তা বাতিল করা যাবে। নগরকান্দায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত অর্ধশতাধিক আবেদনকারী। রোববার নগরকান্দা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। আবেদনকারীদের অভিযোগ, যোগ্যতা ও সরকারি শর্ত পূরণ করেও তারা ডিলারশিপ পাননি। অন্যদিকে, নিজস্ব গোডাউন না থাকা কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে যোগ্য প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় যাদের যোগ্য মনে করেছে, তাদের নিয়োগ দিয়েছে। অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, চার সদস্যের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : নবীনগরে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় সংসদ-সদস্য আবদুল মান্নান। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ১৭৩ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ৬৬ জনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে প্রথম ধাপে ২২ জনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংসদ-সদস্য বলেন, তিনি কোনো প্রার্থীর পক্ষে ডিও লেটার দেননি। নিয়োগটি সরকারি প্রক্রিয়ায় হয়েছে বলে দাবি করে অভিযোগকারীদের প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
