লালপুর ও বাঘায় প্রতারকদের ‘ট্রেডিং জোন’
ইমো হ্যাকারদের রাজকীয় জীবন
আলিশান বাড়ি, লাখ টাকার গাড়ি * প্রবাসীদের রেমিট্যান্সেই বিলাসিতা
মো. সাহীন ইসলাম, লালপুর (নাটোর)
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের লালপুর ও রাজশাহীর বাঘা উপজেলা এখন ইমো, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংসহ অনলাইন প্রতারণার এক নীরব ও ভয়ংকর ট্রেডিং জোনে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরোয়নি-এমন তরুণ ও যুবকদের অনেকে জড়িয়ে পড়েছেন এ প্রতারণায়। রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক হয়ে তাদের অনেকেই যাপন করছেন বিলাসি জীবন। সরেজমিন জানা গেছে, এ অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত তরুণদের বেশির ভাগের দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। অথচ গ্রামের মেঠোপথের পাশে তাদের তৈরি চোখধাঁধানো আধুনিক বাড়ি। প্রশাসনের ওপর নজরদারি রাখতে এসব বাড়ির বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে একাধিক সিসি ক্যামেরা। তাদের প্রায় সবার হাতেই ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা দামের মোটরসাইকেল। ব্যবহার করছেন দামি মোবাইল ফোন, পরছেন স্টাইলিশ পোশাক ও জুতা। কোনো পরিশ্রম ছাড়াই রাতারাতি ধনী হওয়ার এই অন্ধ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের একটি বড় অংশ। তাদের এ রাজকীয় জীবনযাপনের অর্থের জোগান আসছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশির রক্ত-ঘামে উপার্জিত রেমিট্যান্স থেকে। প্রবাসীদের কান্নাতেই গড়ে উঠছে হ্যাকারদের বিলাসবহুল অট্টালিকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অনলাইন প্রতারক জানান, এ চক্রের মূল টার্গেট প্রবাসীরা। সুন্দর কোনো মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক বা ইমো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এরপর প্রবাসীকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে শুরু হয় মিষ্টি আলাপ ও প্রেমের অভিনয়। একপর্যায়ে ভিডিও কল বা কোনো অ্যাপ ইনস্টলের অজুহাতে মোবাইলে পাঠানো কোড বা ওটিপি কৌশলে জেনে নেওয়া হয়। এরপর পুরো ইমো অ্যাকাউন্ট চলে যায় হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে।
পরে প্রবাসীর বাংলাদেশে থাকা মা, বাবা, স্ত্রী বা ভাইকে মেসেজ পাঠিয়ে বলা হয়-‘আমি খুব বিপদে পড়েছি, পুলিশ ধরেছে’ অথবা ‘হাসপাতালে আছি, জরুরি অপারেশন লাগবে।’ এরপর বিকাশ বা নগদ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। স্বজনরা বিপদের কথা শুনে দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেন। স্থানীয়রা জানান, লালপুর সদর, বিলমাড়িয়া, দুড়দুড়িয়া ও পাশের রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কয়েকটি এলাকা এসব প্রতারকের ‘ট্রেডিং জোন’। তাদের অনেকেই মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত ছয় মাসে সাইবার অপরাধবিরোধী প্রায় ৫০টি অভিযানে ৭৬ জন হ্যাকার ও প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা আইনে হয়েছে ২৪টি মামলা। উদ্ধার করা হয়েছে ডজন ডজন ভুয়া বা বেনামি সিম এবং অপরাধে ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ফোন। তিনি বলেন, পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি। প্রবাসীদের অজানা লিংকে ক্লিক না করা এবং ওটিপি বা পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার না করার পরামর্শ দেন তিনি।
