সিসায় দুই কোটি শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সিসার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থানে আছে। বাংলাদেশের এক থেকে পাঁচ বছরের ৩৮ শতাংশ শিশুর শরীরে মাত্রাতিরিক্ত সিসা পাওয়া গেছে। এ কারণে এখন দুই কোটি শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি সাড়ে ৭ শতাংশ গর্ভবতী নারীর রক্তে অতিরিক্ত সিসা পাওয়া গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী-রক্তে প্রতি ডেসিমেলে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি সিসা হলে শিশুর স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়বে। এ কারণে দেশের অনেক শিশু প্রায় সময় অসুস্থ থাকছে। শরীরে সিসা ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে-লিড অ্যাসিড ব্যাটারি এবং অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার।
বুধবার স্থানীয় একটি হোটেলে সিসামুক্ত বাংলাদেশ শীর্ষক এক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। সেমিনারে পিউর আর্থ বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার আফতার উজ জামান বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন দেশে চলছে আনুমানিক ৮০ লাখ। প্রতিটি রিকশায় চার-পাঁচটি করে লিড অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ৮০ শতাংশ ব্যাটারি কোনো নিয়ম না মেনে রিসাইক্লিং করা হয় অবৈধভাবে। বাকি ২০ শতাংশ ব্যাটারি বৈজ্ঞানিকভাবে নষ্ট বা জব্দ না করে যেখানে-সেখানে ফেলে দেয়া হয়। এতে করে বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। এই সিসা নানাভাবে চলে যাচ্ছে মানুষের শরীরে। তিনি বলেন, এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিটি রিকশা প্রায় ৩০ কেজি লিড বা সিসার ব্যাটারি বহন করে প্রতিদিন। এভাবে প্রতি বছর দুই লাখ টন সিসার বর্জ্য রিসাইক্লিং করা হচ্ছে অবৈধভাবে। সেমিনারে আরও বলা হয়, ব্যাটারি রিকশা এখন বাংলাদেশের জন্য চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে লিড বা সিসার ব্যাটারির ব্যবহার। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি বছর আট হাজার ৭০০ কোটি টাকার শুধু ব্যাটারি বেচাকেনা হয়। একটি ইজিবাইক বা ব্যাটারি রিকশায় ৫০ থেকে ৭২ হাজার টাকার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। যা মাত্র ৮ থেকে ১১ মাস যায়। এভাবে লিড অ্যাসিড ব্যাটারির বর্জ্য তৈরি হলে বাংলাদেশের সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি শিল্পে পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা বা এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে ব্যাটারি উৎপাদক, আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নির্ধারণ, ব্যবহৃত ব্যাটারি নিরাপদে সংগ্রহ এবং পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত পরিবেশ আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালন এবং শ্রমিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, ব্যাটারি রিকশার পরিবেশসম্মত ব্যবহার দরকার। না হলে দেশের বড় ক্ষতি হবে। পরিবেশ অধিপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোলায়মান হায়দার বলেন, মানবদেহে সিসা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বাড়ছে। এটি একটি জাতির জন্য উদ্বেগজনক।
